বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করুন : প্রধানমন্ত্রী

news-image

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি মুনাফার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষামূলক সম্প্রচারে মননিবেশ করার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ মনোরঞ্জণের জন্য যে টেলিভিশন দেখে সেটাকে শিক্ষার একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তাঁর নিজের উন্নয়ন এবং সমাজ বিনির্মাণেও ব্যবহার করা যায়।

সবাই সবার লাভের বিষয়টা দেখবে, কিন্তু সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধটাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই বেশি বেশি শিক্ষামূলক সম্প্রচারে যেতে হবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এসেসিয়েশন অব প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটিসিও) এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি আমরা দেশকে যে কোন অপশক্তির কবল থেকে দূরে রাখতে চাই। গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়ার বিকাশে ভূমিকা রেখে এক্ষেত্রে কার্যকরী অবদান রাখতে পারে।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যাণেলগুলো ভূমিকা রাখেতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব চ্যানেলে এই সব অনুষ্ঠান বেশি বেশি সম্প্রচার করা হলে মানুষের নানা বদ অভ্যাসেরও পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, যত বেশি এগুলোর সম্প্রচার হচ্ছে মানুষের মধ্যেও পরিবর্তন আসছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম উপস্থিত ছিলেন।

এটিসিও’র চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, পরিচালক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু এবং ইন্ডিটেনডেন্ট টেলিভিশনের নাজমুল হাসান পাপন এমপি এ সময় এটিসিও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে যেস কোন অশুভ কাজ না হয় সমাজটা যেন সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে, সমাজকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং মানুষের শিক্ষা-দীক্ষা সেটা যেন আরো বিকশিত হতে পারে, আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাটা যেন আরো বিকশিত হয়, সাহিত্য চর্চটা বিকশিত হয়, সেই সাথে আমাদের খেলাধূলা বিকশিত হতে পারে যেটা মানুষের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের সাথে সাথে চরিত্র গঠনসহ সবদিক থেকে সহযোগিতা করবে সেই বিষয়গুলো আপনারা আপনাদের টেলিভিশনে সম্প্রচার করবেন।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সমগ্র বিশ্বব্যাপীই একটা সমস্যা যদিও এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে এই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এর উপর সারাক্ষণ আমাদের নজরদারি রাখতে হচ্ছে কোথাও যেন কোনরকম এটা মানুষের ক্ষতি করতে না পারে।

দেশকে আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়ন করতে হলে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা অপরিহার্য বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগে উন্নীত করার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটা এত সহজ কাজ নয়, এজন্য কিন্তু আমাদের শ্রম দিতে হয়েছে,খাটতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দেখানো পথেই তাঁর সরকার ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়নেই দেশের উন্নতি সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রবৃদ্ধি যেমন বাড়িয়েছি তেমনি মূল্যস্ফীতি দু’অংকের ঘর থেকে ৫ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি।

‘যখন মূল্যস্ফীতি কমথাকে এবং উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় তখন এর সুফলটা গ্রামের সাধারণ মানুষ পায়, যেটি এখান পাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।