বৃহস্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে জিততে দিলেন না খাজারা

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ বলটা করার দরকার ছিল কি না সেটা ভাবার চিন্তা করলেও করতে পারতেন ইয়াসির শাহ। কিন্তু আম্পায়ার তাঁকে চিন্তা করার কষ্টে ফেলতে চাইলেন না। এক বল বাকি থাকতেই ম্যাচ ড্র বানিয়ে বেল তুলে নিলেন রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। এক বলে দুই উইকেট পড়ার বৈধ উপায় নেই। আবার এক বলে ১০০ রান তোলাও বাস্তবে সম্ভব নয়। দুবাই টেস্টটা তাই সমতায় শেষ হলো।

সমতায়? কী হাস্যকরই না শোনাচ্ছে। ৪৬২ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া যে তাড়া করতে পারত না সেটা জানাই ছিল। প্রশ্ন ছিল এ ম্যাচ তারা বাঁচাতে পারে কি না? চতুর্থ দিনের শেষ ঘণ্টার খেলা শুরু হওয়ার আগেই বিনা উইকেটে ৮৭ থেকে মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৮৭/৩। প্রথম ইনিংসের ধস আবারও মনের কোনায় উঁকি দিচ্ছিল। প্রথম ইনিংসে ১৪২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ৬০ রানেই ১০ উইকেট হারিয়েছে দলটি। দ্বিতীয় ইনিংসে তো এমন কিছু হলেও হতে পারে!

এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে হাজির হলেন উসমান খাজা। তাঁকে সঙ্গ দিতে সময়মতো হাজির হলেন অভিষিক্ত ট্র্যাভিস হেড। দুজনে মিলে প্রথম সেশনটা পার করে দিলেন। দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য ম্যাচে একটু স্বাভাবিক অবস্থা ফিরল। দুবাইয়ের উইকেটে পঞ্চম দিনে স্পিনারদের উইকেট না পাওয়াটা তো অস্বাভাবিকই, তাই না! হেড (৭২) ও লেবুশেইন (১৩) এলবিডব্লুর শিকার হয়ে ফিরলেন। দিনের অর্ধেকটা বাকি থাকায় ম্যাচ জয়ের স্বপ্নটাও ফিরল পাকিস্তানের।

কিন্তু খাজা হাল ছাড়লেন না। আরব আমিরাতে চতুর্থ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড (৩০২) গড়ে পাকিস্তানের বোলারদের হতাশায় ডোবালেন পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটসম্যান। তবে একাই লড়েছেন সেটা বলা যাচ্ছে না। বলতে দিচ্ছেন না টিম পেইন। নামের বানানটা ভিন্ন হতে পারে কিন্তু পাকিস্তানকে সত্যিকার অর্থেই ‘পেইন’ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। ম্যাচের প্রথম চার দিনে তাঁর দেহভঙ্গি বলছিল, দলের ভার বহন করাটা তাঁর জন্য খুবই ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। কিন্তু আজ সঠিক মুহূর্তেই জ্বলে উঠলেন। এ দুজনের লড়াই মনে করিয়ে দিয়েছিল ড্যারেন ব্রাভো ও জেসন হোল্ডারের কথা। চতুর্থ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডটি ব্রাভোর কাছ থেকেই কেড়ে নিয়েছেন খাজা। দিবারাত্রির টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ২০১৬ সালে খাজার মতোই প্রায় একাই পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছিলেন ব্রাভো।

দিনের শেষ ঘণ্টা উপস্থিত হতেই খাজা-পেইন জুটি মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্রাভো-হোল্ডারের কথা। ২০১৬ সালে এই দুবাইয়েই শেষ ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ডিনার সেশনের শেষ ভাগে ব্রাভোর বিদায়ে নামা ধস অন্য প্রান্তে ঠেকাতে পারেননি হোল্ডার। ইয়াসির শাহর বলে খাজা (১৪১) এলবিডব্লু হতেই শুরু হলো নতুন ধস। ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু হোল্ডারের চেয়ে সৌভাগ্যবান পেইন। ঠিকই দাঁড়িয়ে গেলেন নাথান লায়ন। এক প্রান্তে ইয়াসির ও অন্যপ্রান্তে আব্বাস-বিলালকে সামলে টিকে গেলেন ৩৪ বল। অন্যপ্রান্তে পেইন (৬১*) তো আছেনই। ১২ ওভারের বেশি সময় টিকে রইল নবম উইকেট জুটি। সে জুটির কাছেই হেরে গেল পাকিস্তানের বহু পরীক্ষিত টেস্ট জয়ের প্ল্যান।

পঞ্চম দিনের উইকেটে স্পিনার লেলিয়ে দিয়ে ম্যাচ জেতার মাস্টারপ্ল্যান অন্তত এক ম্যাচে তো কাজে লাগল না। খাজা-পেইন-লায়নরা তো জয়ের আনন্দেই মাততে পারেন।