শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে সমালোচনা করলেই গুম

news-image

জামাল খাসোগির ‘নিখোঁজ’ নিয়ে রাজবিরোধী কথা বলায় রাজপরিবারের পাঁচ রাজপুত্রকে গুম করেছে সৌদি আরব। জার্মানিতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সৌদি যুবরাজ খালেদ বিন ফারহান আল-সৌদ নতুন এ অভিযোগ তুলেছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট তার বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর, সৌদি আরবে রাজপরিবারে বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই গুম, হত্য-অপরহণ, জেল অনিবার্য্য।

খালেদ বিন ফারহান বলেন, এ পাঁচ রাজপুত্র হলেন আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল-আজিজের নাতি। তারা গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে খাসোগির নিখোঁজের বিষয়ে কথা বলেছিল।

তিনি বলেন, তাদেরকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয় এবং এখন তাদের অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ করতে নেয়া পদক্ষেপগুলোরই অংশ এসব।

৪১ বছর বয়সী এ রাজপুত্র বলেন, ২ অক্টোবর খাসোগির সঙ্গে যা ঘটেছে, ঠিক এর ১০ দিন আগে আমার সঙ্গেও তাই ঘটতে পারত। আমার অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি শুনে সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাকে সাহায্য করতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, আমার পরিবারকে বলা হয় তারা যেন আমাকে মিসরের কায়রোতে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে ডেকে পাঠায়। আমাকে একটা বড় অঙ্কের চেক এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

কিন্তু আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। তিনি আরও বলেন, এখন সৌদির অনেক যুবরাজ কারাবন্দি। মাত্র পাঁচদিন আগে তাদের একটি দল বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দেখা করে জানায়, তারা আল-সৌদ পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীত।

তারা খাসোগির বিষয়টিও উত্থাপন করে। এসব বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো জবাব পায়নি। খ্যাতনামা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির অন্তর্ধানে বেকায়দায় পড়ে গেছে সৌদি আরব। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তাকে হত্যার বিষয়টি ছায়া ফেলেছে দেশটির বহুল প্রতীক্ষিত ‘দাভোস ইন ডেজার্ট’ সম্মেলনে।

আগামী ২৩ অক্টোবর রিয়াদে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমদিকে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ে আগ্রহ দেখালেও খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর তাতে ছেদ পড়েছে।

বেশির ভাগ জানিয়ে দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের ওই সম্মেলনে আর যাচ্ছে না। দু’দিন ধরে এই গুঞ্জনই চলছিল। এর মধ্যেই নতুন বোমা ফাটাল যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের ওই সম্মেলনে তারা কেউইই আসবে না বলে পরিষ্কার বিবৃতি দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস।

রোববার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়েছে বিবিসির জেমস ল্যানডেল জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন এবং ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স এ সম্মেলনে অংশ না-ও নিতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত স্টিভ মুচিন এবং লিয়াম ফক্স, এই দু’জনের কেউ সম্মেলনে অংশ না নিলে তাদের অনুপস্থিতি দুই মিত্রদেশের পক্ষ থেকে তিরস্কার হিসেবেই প্রতীয়মান হবে। এর আগে সিডিউল জটিলতা দেখিয়ে ওই সম্মেলনে না যাওয়ার ঘোষণা দেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, লিয়াম ফক্স সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করেননি।

‘দাভোস ইন ডেজার্ট’ নামে খ্যাত তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটি বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু তুরস্কে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেটে গিয়ে সাংবাদিক জামাল খাসোগির নিখোঁজ হওয়া ও তার পেছনে সৌদি সরকারের হাত থাকার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে দেশটির সম্মেলন বর্জন করা বা সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিতের কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

সাংবাদিক জামাল খাসোগির নিখোঁজের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ধমক দিল সৌদি আরব। খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দূরত্ব বাড়ছে।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খাসোগিকে হত্যা করা হলে ‘কঠোর শাস্তি’ দেয়া হবে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রিয়াদ। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছেন, খাসোগিকে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ নেয়া হলে তার পাল্টা জবাব দেয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটিতে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ প্রত্যাহার করবে পশ্চিমের বেশ কিছু কোম্পানি। এই সংবাদে সৌদি শেয়ারবাজারে রেকর্ড দরপতন হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

চলতি সপ্তাহে এশিয়ার সবচেয়ে বড় সম্মেলন এসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনসে (আসিয়ান) যোগ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে গুরুত্ব বেড়েছে পুতিনের। ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, সিঙ্গাপুরে এবার আসিয়ানের ৩৩ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্পের পরিবর্তে এতে যোগ দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ফলে এশিয়ার বড় দেশগুলোর কাছে পুতিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সম্মলেন শেষে তোলা গ্রুপ ফটোতে দেখা গেছে, আয়োজক দেশ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হাসিয়েন লংয়ের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়েছেন পুতিন। আর অন্যপাশে একজনের পরে দাঁড়িয়েছেন মাইক পেন্স। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রেয়ুথ চান ওচা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি স্কট মরিসনের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন পেন্স। আর এতেই নাকি গুরুত্বের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে বলে দাবি করছে ব্লুমবার্গ। সংবাদমাধ্যমটির দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়াকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। এদিকে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বারত দিয়ে সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প আসিয়ানে না আসায় প্রমাণ হয়েছে তিনি এশিয়ার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নন। অবশ্য ট্রাম্প এশিয়ার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কীনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের কাজ মাইক পেন্স করতে পেরেছেন। কিন্তু এটা মানতে নারাজ অন্য একটি পক্ষ।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টের গভীর উদ্বেগ

খাসোগি হত্যা: সৌদি পাঁচ কর্মকর্তা মৃত্যুদণ্ডের মুখে, যুবরাজ জড়িত নন!

পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি!(ভিডিও)

কিশোর বক্সারের মৃত্যুতে উত্তাল থাইল্যান্ড

মেলানিয়ার সঙ্গে বিবাদ : পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

কানাডায় আশ্রয় চাইছে রেকর্ড সংখ্যক মার্কিন নাগরিক!

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি’র কঠোর সমালোচনায় মাহাথির

ওয়েস্টবেঙ্গল ‘বাংলা’ হতে পারে না, জানাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার