শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পূজাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

news-image

রাজশাহী নগরীতে পূজার থিমে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মহাকাশ জয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের থিমে এবার সেজেছে নগরীর রানীনগর এলাকার টাইগার সংঘের পূজামণ্ডপ।

সাজ-সজ্জার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেয়া হয়। আকর্ষণীয় এই মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে ভীড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছিল রাজশাহীর বাগামারা উপজেলার তাহেরপুর থেকেই। শক্তির উপাসনা করতে গিয়ে রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম দুর্গোৎসব আয়োজন করেন। এরপর তা ক্রমেই ভারতবর্ষে ছড়িয়ে যায়। এখন এই উৎসব সার্বজনীন রূপ নিয়েছে। তবে টাইগার সংঘের মণ্ডপে এবারের দুর্গোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থিম।

নগরীর পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাজ-সজ্জা ও আয়োজনে কমতি নেই কোনোটির। শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মণ্ডপগুলোতে চলছে অলিখিত প্রতিযোগিতা। তবে বরাবরের মতো এবারও নিজেকে ব্যতিক্রমী করে রেখেছে টাইগার সংঘের মণ্ডপ।

টাইগার সংঘ পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী জানান, তারা দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পূজার আয়োজন করছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে মণ্ডপ সাজাচ্ছেন নতুন নতুন থিমে। তাদের এবারের থিম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এবার তাদের মণ্ডপ পরিকল্পনা একেবারেই নিজস্ব।

মণ্ডপে মহাকাশ জয়ের থিম প্রসঙ্গে পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রেরণ বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন। এই অর্জন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকলেও জানাশোনা নেই। তাই এই সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের থিমে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী নগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শরৎ সরকার বলেন, থিমভিত্তিক পূজা চর্চা রাজশাহীতে তেমন হয় না। তবে বরাবরই নতুন নতুন থিমে মণ্ডপ সাজায় টাইগার সংঘ। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থিমে বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন তারা। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

জেলা ও নগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রাজশাহী নগরীতে ৯৮ এবং জেলায় ৩৬২টি মণ্ডপে সারদীয় দুর্গোৎসব চলছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ রয়েছে জেলায় ১০৫ এবং নগরীতে ২৬টি। উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নগর ও জেলা পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, প্রত্যেক মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।