শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে ৫ কারণে সৌদিকে ভয় পায় পশ্চিমারা

news-image

সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে আঙ্কারায় সৌদি দূতাবাসে হত্যার ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। সাধারণত পশ্চিমারা যেসব কারণে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে সেই একই কারণে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

পশ্চিমা দেশগুলো নানা কারণে সৌদি আরবকে ঘাটাতে চায় না। জামাল খাশোগির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিলেও পাল্টা জবাব দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। যেসব কারণে পশ্চিমারা সৌদি আরবকে সমীহ করছে সেগুলো হচ্ছে;

তেলের সরবরাহ এবং দাম: বিশ্বে তেলের মওজুদের ১৮ শতাংশ হচ্ছে সৌদি আরবে। তারাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশ। এটি সৌদি আরবকে বর্তমান বিশ্বে বিপুল ক্ষমতা এবং প্রভাব খাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে সৌদি আরব তাদের তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে, যদি না অন্যদেশগুলো তাদের উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের সরবরাহ একই পর্যায়ে রাখতে পারে।

অস্ত্র ব্যবসা: ২০১৭ সালে অস্ত্র কেনায় যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে, তাতে সৌদি আরব ছিল তিন নম্বরে। সুইডেনের ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ হিসেব এটা।

গত বছর কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে সৌদি আরব। আগামী দশ বছরে এই অস্ত্র ক্রয়ের খরচ শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে ৩৫ হাজার কোটি ডলার। হোয়াইট হাউজের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বিশাল অংকের অস্ত্র কেনার চুক্তি আর কখনো হয়নি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানিও বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা করছে সৌদি আরবের সঙ্গে।

নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ: পশ্চিমা দেশগুলো আরেকটি যুক্তি দেখায় যে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঠিক রাখা এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠে তারপরও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে এই একই যুক্তি দিয়েছিলেন।

আঞ্চলিক জোট: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে সৌদি আরব বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। গত কয়েক দশক ধরেই সুন্নী সৌদি আরব এবং শিয়া ইরানের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে মধ্যপ্রাচ্যের নানা জায়গায়।

সিরিয়ার লড়াইয়ে সৌদি আরব সমর্থন দিচ্ছে সেই সব গোষ্ঠীকে, যারা প্রেসিডেন্ট আসাদকে উৎখাত করতে চায়। অন্যদিকে ইরান আবার রাশিয়ার সঙ্গে মিলে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সাহায্য করছে এই যুদ্ধের মোড় তার পক্ষে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো হবে এবং নতুন অস্ত্র চুক্তি তখন ইরানের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারে এমনকী তাদের মধ্যে সমঝোতা পর্যন্ত হতে পারে।

বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ: সৌদি আরবের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা হারাতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবে মার্কিন পণ্য এবং সেবাখাত প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। এই ব্যবসার বিরাট অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অনুকুলে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভর করছে এই বাণিজ্যের ওপর।

এ বছরেরই আগস্ট মাসে সৌদি আরব কানাডার সঙ্গে সব নতুন ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ কানাডা এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সেদেশে নারী অধিকার এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলায় তাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের যেন মুক্তি দেয়া হয়। সৌদি আরব তখন ক্ষিপ্ত হয়ে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে বর্ণনা করে।

সৌদি আরব শুধু কানাডা থেকে শস্য আমদানিই বন্ধ করেনি। তারা সৌদি সরকারের বৃত্তি নিয়ে যে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়তে গিয়েছিল তাদের সবাইকে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়।

এ জাতীয় আরও খবর

চলতি সপ্তাহে এশিয়ার সবচেয়ে বড় সম্মেলন এসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনসে (আসিয়ান) যোগ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে গুরুত্ব বেড়েছে পুতিনের। ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, সিঙ্গাপুরে এবার আসিয়ানের ৩৩ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্পের পরিবর্তে এতে যোগ দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ফলে এশিয়ার বড় দেশগুলোর কাছে পুতিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সম্মলেন শেষে তোলা গ্রুপ ফটোতে দেখা গেছে, আয়োজক দেশ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হাসিয়েন লংয়ের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়েছেন পুতিন। আর অন্যপাশে একজনের পরে দাঁড়িয়েছেন মাইক পেন্স। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রেয়ুথ চান ওচা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি স্কট মরিসনের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন পেন্স। আর এতেই নাকি গুরুত্বের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে বলে দাবি করছে ব্লুমবার্গ। সংবাদমাধ্যমটির দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়াকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। এদিকে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বারত দিয়ে সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প আসিয়ানে না আসায় প্রমাণ হয়েছে তিনি এশিয়ার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নন। অবশ্য ট্রাম্প এশিয়ার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কীনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের কাজ মাইক পেন্স করতে পেরেছেন। কিন্তু এটা মানতে নারাজ অন্য একটি পক্ষ।

রোহিঙ্গাদের আপত্তিতে প্রত্যাবাসন স্থগিত

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টের গভীর উদ্বেগ

খাসোগি হত্যা: সৌদি পাঁচ কর্মকর্তা মৃত্যুদণ্ডের মুখে, যুবরাজ জড়িত নন!

পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি!(ভিডিও)

কিশোর বক্সারের মৃত্যুতে উত্তাল থাইল্যান্ড

মেলানিয়ার সঙ্গে বিবাদ : পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

কানাডায় আশ্রয় চাইছে রেকর্ড সংখ্যক মার্কিন নাগরিক!

আগুন দেওয়া যুবক ‘শনাক্ত’