বুধবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অবিশ্বাস্য! বিমানবন্দরে যেভাবে ব্যাগ কেটে মালামাল চুরি করা হয়! (ভিডিও)

news-image

ইউটিউবে পপুলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের মধ্যেই যাত্রীদের ব্যাগ কেটে ভেতর থেকে মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একজন লোডার। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনা এটি। কিন্তু আসলেই কি তাই?

ইন্টারনেটে ‘থেফট ইন এয়ারপোর্টস’ লিখে গুগল সার্চ করলে চলে আসে শত শত ভিডিও লিংক। মাঝামাঝিতে খুঁজে পাওয়া যায়, পপুলার সেই চুরির ভিডিওসহ একটি নিউজ লিংক। নিউইয়র্ক পোস্টের একটি নিউজে সংযুক্ত ওই চুরির ভিডিওটি আসলে বাংলাদেশের নয়। এটা থাইল্যান্ডের ফুকেট এয়ারপোর্টের ঘটনা। যেটাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনা বলে দাবি করছেন বাংলাদেশি ইউটিউবার।

‘অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য! বিমানবন্দরে যেভাবে ব্যাগ কেটে মালামাল চুরি করা হয়!’ -শিরোনামে পোস্ট করা একটি ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি সামনে এনেছেন শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ, যিনি ভার্চুয়াল জগতে বানসুরি এম ইউসুফ নামেই পরিচিত।

যাত্রী হয়রানি রোধে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রবাসী ও বিদেশ গমনেচ্ছুদের মাঝে সচেতনতা তৈরির কাজ করছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আজ সকালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এমন নজরকাড়া শিরোনাম দেখে অনেকেই ভেবেছেন, তিনি হয়ত দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাগ কেটে কীভাবে ভেতর থেকে মালামাল চুরি করা হচ্ছে সেটাই দেখাবেন।

কিন্তু ভিডিওর শুরুতেই তিনি বলেন, “আজ আপনাদের শেখাব, কী করে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাগ কেটে ভেতর থেকে মালামাল চুরি করতে হয়… এই পপুলার ভিডিওটি দেখলেই আপনি শিখে যাবেন…” একথা বলে প্রথমে তিনি পপুলার ভিডিওটি প্লে করেন এবং পরে গুগল সার্চ দিয়ে আসল ভিডিওটি বের করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ আসলে নজর কাড়তেই নিজের ভিডিওর শিরোনাম দিয়েছেন ‘অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য! বিমানবন্দরে যেভাবে ব্যাগ কেটে মালামাল চুরি করা হয়!’ বাইরের ঘটনার ভিডিওকে দেশের বলে প্রচার চালানোর বিপদ সম্পর্কে জানাতেই তিনি এই ভিডিওটি পোস্ট করেন।

মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিদেশের বিমানবন্দরে চুরির ঘটনাকে দেশের বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা আসলে দুইটা ভুল করছেন। প্রথমত, এতে করে প্রমাণ করা হয় যে বাইরের বিমানবন্দরে এসব আরও বেশি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মিথ্যা উদাহরণ দিলে যে কেউ লিঙ্ক দেখিয়ে দাবি করবে, এটা ঢাকা এয়ারপোর্টের না। এতে করে আমাদের এখানেও যে চুরি হচ্ছে, সেই সত্যটা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তাহলে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে চুরির সত্য ব্যাপার তুলে ধরতে কী করা উচিত? এর উত্তরও জানালেন এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই। তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটস অফ অল এয়ারপোর্টস অফ বাংলাদেশ’ নামের ফেসবুক পেইজে ঢুকে দুই তিন বছর পেছনে গেলেই হবে। সেখানে তিন-চারশ চোরদের ছবি পাওয়া যাবে, যাদের ধরে ধরে জেল দেয়া হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে। এদের ছবি নিয়ে বলেন, এরা চোর ছিল। এখন কমে গেছে। কিন্তু অন্য দেশের ভিডিও দিয়ে এখানের চুরি বললে এখানকার যারা চোর তারাও বলবে, চোর তো আমি না। এটা বাইরের।

বানসুরি এম ইউসুফের এই ভিডিওটি ইউটিউবে পোস্টের পর গত ১১ ঘন্টার মধ্যে সাড়ে চার হাজার ভিউ হয়। ফেসবুকে তার টাইমলাইনে পোস্ট করার পর শেয়ার হয়েছে আরও কয়েকশ বার।