শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জীবনের শেষ কলামে জামাল খাশোগি যা লিখেছেন

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট।। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন সৌদি রাজপরিবারের সাংবাদিক জামাল খাশোগি। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশের জন্য একটি কলাম পাঠিয়েছিলেন। সেটি প্রকাশ করা হয়েছে বুধবার (১৭ অক্টোবর ২০১৮)।

কলামে খাশোগি লিখেছেন, আমি সম্প্রতি অনলাইনে ২০১৮ সালের ফ্রিডম হাউসের প্রকাশিত ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড প্রতিবেদনটি খুঁজছিলাম। এর ফলে আমার মধ্যে গভীর একটি উপলব্ধি এসেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বে আরব দেশগুলোর মধ্যে একটি মাত্র দেশ আছে যাকে তার মধ্যে শুধু তিউনিশিয়াকেই স্বাধীন বলে উল্লেখ করা যায়। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জর্ডান, মরক্কো এবং কুয়েত। তারা পুরোপুরি নয় বরং আংশিক স্বাধীন। এ ছাড়া আরব দেশগুলো স্বাধীন নয় বলেই বিবেচিত।

এর ফলে এসব আরব দেশগুলোতে যারা বসবাস করছেন তারা হয় অজ্ঞ অথবা তাদের ভুল তথ্য দেয়া হয়। তারা অনেক বিষয় নিয়েই প্রকাশ্যে আলোচনা করতে পারেন না। যেসব জিনিস দেশকে প্রভাবিত করছে বা নিজেদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন নিয়েও মুখ খুলতে পারেন না তারা।

রাষ্ট্র পরিচালিত মাধ্যমগুলো জনগণের মানসিকতাকে গুরুত্ব দেয় না। যদিও অনেকেই বিশ্বাস করেন না। কিন্তু একটি বৃহদায়তনের লোকজন অনেক সময়ই মিথ্যা তথ্যের শিকার হন। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে এই অবস্থারপরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই।

২০১১ সালের বসন্তে আরব দেশগুলোর মধ্যে আশা দেখা দিয়েছিল। সাংবাদিক, বিভিন্ন একাডেমির লোকজন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল যে, তাদের দেশগুলোতে উজ্জ্বল এবং স্বাধীন আরব সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সরকারের কর্তৃত্ব এবং অবিচল হস্তক্ষেপ এবং তথ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে সাধারণ মানুষের স্বাধীন হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তাদের এই প্রত্যাশা নিষ্ফল হতে সময় লাগেনি। আরব তাদের সেই পুরনো ধারায় ফিরে গেল সমাজ। এখানেই শেষ নয় পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও কঠোর হতে শুরু করল।

প্রখ্যাত সৌদি লেখক সালেহ আল শেহি সৌদি প্রেসে প্রকাশিত এ যাবৎকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলাম লিখেছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি তাকে অন্যায়ভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি সৌদির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশ বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। এর ফলে আল মাসরি আল ইয়োম পত্রিকার সম্পূর্ণ মুদ্রণ বাজেয়াপ্ত করেছিল মিসর সরকার। হয়তো তারা অন্যান্য আরব বন্ধু দেশগুলোকে কোনোভাবেই ক্ষিপ্ত করতে চায়নি কিংবা চায়নি যে তাদের কাছ থেকে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া আসুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে । বরং তীব্র নিন্দার বদলে তা মৌনতায় পরিণত হয়েছে।

এর ফলে আরব দেশগুলো গণমাধ্যমকে আরও ব্যাপকহারে নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা পেয়েছে। একটা সময় ছিল যখন সাংবাদিকরা বিশ্বাস করতেন যে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়তো নিষেধাজ্ঞা থেকে তথ্যকে মুক্ত করা যাবে এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংবাদপত্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।

কিন্তু এসব সরকার, যারা তীব্রভাবে তথ্যের ওপরও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে তারা আগ্রাসী হয়ে উঠল এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দিল। তারা স্থানীয় রিপোর্টারদের গ্রেফতার করল এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশনার ক্ষতি করতে বিজ্ঞাপন দাতাদের চাপ দিতে শুরু করল।

তবে অল্প কিছু মাধ্যমই ছিল যারা আরব বসন্তের কর্মশক্তিকে চালিয়ে যেতে পেরেছে। অপরদিকে কাতার সরকার সব সময়ই আন্তর্জাতিক মাধ্যমের সংবাদ কভারেজকে সমর্থন করে গেছে। প্রতিবেশিদের সঙ্গে বিরোধীতা করে নিজেদের পথেই হেঁটেছে তারা।

তিউনিশিয়া এবং কুয়েতে সংবাদ মাধ্যমগুলো কিছুটা স্বাধীনতা পায়। সেখানে মিডিয়াগুলো দেশের অভ্যন্তরীন ইস্যু গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে বৃহত্তর আরবে কি ঘটছে সেগুলো তারা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে না।

সৌদি আরব, মিসর এবং ইয়েমেনের সাংবাদিকরা যে প্লাটফর্ম পাচ্ছে তা অনেকটাই দ্বিধাগ্রস্ত। এছাড়া লেবাননেও যদি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হয় তবে দেখা যাবে, তারা ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রভাবের শিকার।

আমার অনেক পরামর্শ অনুবাদ করে তা আরবী ভাষায় প্রকাশের পদক্ষেপ নিয়েছিল দ্য পোস্ট। এজন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। নিজেদের ভাষায় এসব বিষয় পড়লে আরবরা যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক এবং জটিলতা বুঝতে পারবে এবং নিজেদের মধ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

আরবদের কন্ঠস্বর তুলে ধরার জন্য আমাদের একটি প্লাটফর্ম দরকার। আরব বিশ্বগুলোর একটি আধুনিক সংস্করণ প্রয়োজন যাতে করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন। দারিদ্র্য, অব্যবস্থাপণা এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আমাদের ভুগতে হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

চলতি সপ্তাহে এশিয়ার সবচেয়ে বড় সম্মেলন এসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনসে (আসিয়ান) যোগ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে গুরুত্ব বেড়েছে পুতিনের। ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, সিঙ্গাপুরে এবার আসিয়ানের ৩৩ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্পের পরিবর্তে এতে যোগ দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ফলে এশিয়ার বড় দেশগুলোর কাছে পুতিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সম্মলেন শেষে তোলা গ্রুপ ফটোতে দেখা গেছে, আয়োজক দেশ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হাসিয়েন লংয়ের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়েছেন পুতিন। আর অন্যপাশে একজনের পরে দাঁড়িয়েছেন মাইক পেন্স। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রেয়ুথ চান ওচা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি স্কট মরিসনের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন পেন্স। আর এতেই নাকি গুরুত্বের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে বলে দাবি করছে ব্লুমবার্গ। সংবাদমাধ্যমটির দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়াকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। এদিকে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বারত দিয়ে সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প আসিয়ানে না আসায় প্রমাণ হয়েছে তিনি এশিয়ার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নন। অবশ্য ট্রাম্প এশিয়ার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কীনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের কাজ মাইক পেন্স করতে পেরেছেন। কিন্তু এটা মানতে নারাজ অন্য একটি পক্ষ।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টের গভীর উদ্বেগ

খাসোগি হত্যা: সৌদি পাঁচ কর্মকর্তা মৃত্যুদণ্ডের মুখে, যুবরাজ জড়িত নন!

পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি!(ভিডিও)

কিশোর বক্সারের মৃত্যুতে উত্তাল থাইল্যান্ড

মেলানিয়ার সঙ্গে বিবাদ : পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

কানাডায় আশ্রয় চাইছে রেকর্ড সংখ্যক মার্কিন নাগরিক!

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি’র কঠোর সমালোচনায় মাহাথির

ওয়েস্টবেঙ্গল ‘বাংলা’ হতে পারে না, জানাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার