বুধবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রেম করে বিয়ে, ২ মাসের মাথায় যুবতীর করুণ পরিণতি!

news-image

প্রেম মানে না কোনো বাধা। এমনই প্রেমে মজে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন লিপিকা নামে এক তরুণী। কিন্তু, বিয়ের পরের ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।যৌতুকের দাবিতে বিয়ের দুই মাসের মাথায় ওই গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। শুধু খুন করেই খ্যান্ত হয়নি তারা। অভিযোগ, খুনের পর ওই গৃহবধূর মরদেহ ঘরেই পুড়িয়ে ফেলা হয়।এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কালনায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা গেছে, নিহতের নাম লিপিকা মণ্ডল। কালনার নিঙড়া গ্রামের বাসিন্দা লিপিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কালনার-ই নাদনঘাট থানার মরুইডাঙা গ্রামের বাসিন্দা সুজয় মণ্ডলের। লিপিকার এ সম্পর্কে রাজি ছিল না তার বাড়ির লোকজন।পরে প্রেমের টানে বাড়ির অমতেই সুজয়কে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যায় লিপিকা। বিয়ের ২ সুজয়ের সঙ্গে লিপিকার মাস ২ আগেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিপিকার সুখে শান্তিতে সংসার করার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

সুজয় বিয়ের পরই নিজের আসল মূর্তি ধারণ করে। লিপিকার বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য লিপিকার উপর অত্যাচার শুরু করে সুজয় সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।যৌতুক হিসেবে লিপিকার বাবার বাড়ি থেকে নগদ ৩০ হাজার, ৩ ভরি সোনা ও ১টি মোটরবাইক নিয়ে আসতে বলা হয় তাকে। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কথা বাবার বাড়িতে জানায় লিপিকা।লিপিকার বাবা-মা মেয়ের এমন অবস্থার কথা শুনে ভেঙে পড়েন।

মেয়ে কথা চিন্তা করে দাবি মতো যৌতুক দেয়ার জন্য পেশায় দিনমজুর লিপিকার বাবা জামাই সুজয় মণ্ডলের কাছে ৬ মাস সময় চেয়ে নেয়। কিন্তু, শ্বশুরের অনুরোধ মানতে রাজি হয়নি সুজয়। যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় লিপিকার উপর দিন দিন অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় তারা।সর্বশেষে গত মঙ্গলবার শ্বশুরবাড়ির ঘর থেকে উদ্ধার হয় লিপিকার অগ্নিদগ্ধ দেহ। লাশ পোড়া কটূ গন্ধ নাকে যেতেই সন্দেহ হয় প্রতিবশীদের।

পরে প্রতিবশীরাই খবর দেন পুলিশে। নাদনঘাট থানার পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, স্বামী সুজয়-ই খুন করেছে লিপিকাকে। তারপর প্রমাণ লুকানোর জন্যই ঘরের মধ্যেই লিপিকার দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেদিয়েছে পুলিশ।এদিকে, ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। তাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।