সোমবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের ‘তফসিল’ মানে কি?

news-image

আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে চলতি সংসদের মেয়াদ। এর মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। অর্থাৎ নির্বাচন কত তারিখ হবে সেটি ঘোষণা। কিন্তু তফসিল মানে শুধুই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নয়। নির্বাচনের সাথে জড়িত খুঁটিনাটি আরো অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত জড়িত এই তফসিলের সাথে। কি সেগুলো?বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।

নির্বাচনের তফসিলে কী থাকে? খুব সহজ ভাষায় এটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখের একটি আইনি ঘোষণা। নির্বাচন আয়োজন করার জন্য যেসব কাজকর্ম জড়িত রয়েছে তার সবকিছুর জন্যও একটি সময় বেঁধে দেয়া হয়। যেমন- প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার মনোনয়নের কাগজ কত তারিখ জমা দেয়া শুরু করতে পারবেন সেটি ঘোষণা করা হয়।মনোনয়ন ফরম নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে বাছাই করবে, বাছাই প্রক্রিয়ায় যদি সেটি বাতিল হয়ে যায় তাহলে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ব্যক্তি কতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবে তার সময় বেঁধে দেয় কমিশন।

যারা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন তাদের তালিকা কবে নাগাদ ছাপানো হবে, নির্বাচনী প্রচারণা কবে থেকে শুরু করা যাবে আর কতদিন পর্যন্ত তা চালানো যাবে – সেটির উল্লেখ থাকে।নির্বাচনের তফসিল মানে শুধু ভোট দেয়ার তারিখ নয়। সাধারণত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ঘোষণার সাথে প্রচারণা শুরুর তারিখ সম্পর্কিত থাকে।নির্বাচন কত তারিখ হবে, ক’টায় শুরু হবে আর কয়টা পর্যন্ত চলবে সেটির বিস্তারিত এবং ভোটের পর তার গণনা কিভাবে ও কোথায় হবে সেটিরও বৃত্তান্ত থাকে। এই পুরো বিষয়টিকেই নির্বাচনের তফসিল বলা হয়।

এসব সিদ্ধান্ত কারা নেয়? কিছু বিষয় সংবিধানে একদম নিশ্চিত করে বলা আছে। তাই সেগুলো নিয়ে আদৌ কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারই দরকার হয় না। যেমন- সংবিধানে বলা আছে, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অর্থ্যাৎ আগামী ২৮ জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু এই ৯০ দিনের মধ্যে কবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবেসেটি ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।কমিশনারদের মধ্যে সেটি নিয়ে এবং নির্বাচনের তফসিলের অন্যান্য সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারপর বেশিরভাগ কমিশনার যে সিদ্ধান্ত দেয় সেটি গৃহীত হওয়ার কথা।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর কি বদল করা যায়? নির্বাচন কমিশন চাইলে সংসদ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ঐ ৯০ দিনের মধ্যে দেয়া নির্বাচনের তারিখ বদলাতে পারে। যদি সেটির দরকার হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের সেই এখতিয়ার রয়েছে। সেক্ষেত্রে তফসিল সংশোধন করে দেয়া যায়। এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য তারিখগুলো পরিবর্তন করে দিতে পারে কমিশন।ড. এম সাখাওয়াত হোসেন একটি নমুনা দিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে ড. এটিএম শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি তখনো নির্বাচনে আসবে কিনা সে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছিল। এরপর বিএনপির সাথে আলোচনার পর তাদের দাবির ভিত্তিতে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ২৯ ডিসেম্বর করা হয়েছিলো।

এবারও নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়েছে।২০০৬ সালে একবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সংকটের মুখে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেছিলো। কিন্তু নির্বাচনের তারিখটি রয়ে গিয়েছিলো। সেই তারিখ পরে বাতিল করেছিলো আদালত।অন্য একটি দেশের তফসিলের নমুনা সাধারণত বাংলাদেশের তফসিলে যেসব কার্যক্রম দেয়া থাকে তা করার জন্য সবমিলিয়ে পুরো সময়কাল ৪৫ দিন হয়ে থাকে। সেটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনে তফসিলের সময়কাল সব মিলিয়ে ১৭ দিন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৭ দিনের মধ্যে সেখানে নির্বাচনসহ তার আগের সবকিছু শেষ করতে হবে। সেখানে আইন করে স্থায়ী একটি তফসিল তৈরি করাই রয়েছে। আর সেখানে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করে না। সেটি করে থাকে স্থানীয় কাউন্সিল।সূত্র: বিবিসি বাংলা

এ জাতীয় আরও খবর

গণহত্যার স্বীকৃতি আসেনি কূটনৈতিক ব্যর্থতায়

রাজধানীর বালুরঘাটে ৬ তলা ভবন হেলে পড়েছে

সেই চেয়ারম্যানের দাবি, আবেগে জড়িয়ে ধরেছিলেন

প্রধানমন্ত্রী তুলে দিলেন স্বাধীনতা পদক

আজ ১ মিনিট নিঃশব্দ থাকবে বাংলাদেশ

২৫ মার্চ : নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বর হামলা

প্রধানমন্ত্রী আজ স্বাধীনতা পুরস্কার দেবেন

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি

সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা হবে না : সচিব

নূরের বান্ধবী নীলাকে যে কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি

সড়কে স্পেশাল টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু