বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আক্রমণাত্মক মাহমুদউল্লাহ–মিথুন (সরাসরি)

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করানো হবে কি না, এ নিয়ে সমর্থকদের ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছিল বাংলাদেশ দল। তবে দলীয় সূত্রে কালই জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশ দল ব্যাটিং করার পক্ষে। আজ টেস্টের চতুর্থ দিনে সেটি সত্যি বলে প্রমাণিত হলো। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। দ্রুতই ফিরে যান চার ব্যাটসম্যান—লিটন দাস (৬), ইমরুল কায়েস (৩), মুমিনুল (১) আর প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক।

সকালের সেশনে পঞ্চম ওভারের প্রথম বল থেকে মড়কের শুরু। কাইল জার্ভিসের করা অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বল অযথাই তুলে মেরে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে মাভুতার তালুবন্দী হন ইমরুল (৩)। ঠিক এর এক বল পর জার্ভিসের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন লিটন (৬)। পরের ওভারে তিরিপানোর চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে এই ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি আগের ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মুশফিকুর রহিম। মিঠুনের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েই ধৈর্যহারা হন তিনি। তিরিপানোর করা অফস্টাম্পের বাইরের বল অযথাই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিক (৭)। লিটনকে বোল্ড করেন জার্ভিস। এই জার্ভিসের বলেই মাভুতার হাতে ক্যাচ দেন ইমরুল।

মুমিনুল তিরিপানোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন চাকাভাকে। মুশফিকও আউট হন তিরিপানোর বলে মাভুতার ক্যাচ হয়ে।

কাল জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস ৩০৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গে শেষ হয়েছিল তৃতীয় দিনের খেলা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে তখনো ২১৮ রানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়েছিল সফরকারি দল। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করাবে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে কাল থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা-কল্পনা ও নানা সমীকরণ মেলানো। বাংলাদেশ দল কালই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেয়নি। কারণ, চতুর্থ দিনে উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে দল।

তৃতীয় দিনের উইকেট দেখে বাংলাদেশ একটু অবাকই হয়েছে। যতটা ভাঙার কথা ছিল, যতটা টার্ন পাওয়ার কথা ছিল, তেমন কিছুই দেখা যায়নি। বরং বল সুন্দর ব্যাটে এসেছে। আজ চতুর্থ দিন সকালে তাই উইকেট দেখে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় সূত্রে কালই জানা গিয়েছিল, জিম্বাবুয়েকে অন্তত ৪০০ রানের লক্ষ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করতে চায় তাঁরা। এক-দেড় সেশনে ব্যাটিং করে যদি উইকেট ভাঙে, সেটি কাজে লাগাতে চায় দল। চতুর্থ ইনিংসে অন্তত ১৩০ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেলে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করা কঠিন হবে না বলেই বিশ্বাস বাংলাদেশের।

ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটা আরেকটি কারণেও নেওয়া হতে পারে। বোলাররা বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় পাবেন। তবে শেষ দিনে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। উইকেট ভাঙলে এবং আজ দিনের শেষ ভাগ থেকে বল বাঁক নেওয়া শুরু করলে চতুর্থ ইনিংসে স্বল্প লক্ষ্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ দল সম্ভবত এ ঝুঁকিটা নিতে চায়নি।