মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটযুদ্ধের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র আহ্বান মির্জা ফখরুলের

news-image

নিউজ ডেস্ক : আগামী নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে থেকে ভোটযুদ্ধের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আসুন আমরা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হই…তাদের (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ) পরাজিত করি।’

শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ মহাসমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেকেই বলেন এতো কিছুর পরেই কেন নির্বাচনে গেলাম। এভাবেই যেতে হবে। এই নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে হবে। কেননা ওখানেই রয়েছে আমাদের গণতন্ত্রের স্বাধীনতা। এজন্য দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। সামনের নির্বাচন সেই আন্দোলনের প্রধান অংশ।

‘এই নির্বাচনে যদি গণতন্ত্রকামী মানুষ জয়ী হতে না পারে তাহলে বিচার ব্যবস্থা চিরতরে এটা দলের হাতে চলে যাবে। গণতন্ত্র চলে যাবে একটা দলের হাতে। তাই আগামী নির্বাচনে সমস্ত জনগোষ্ঠীকে এক করে ঐক্যবদ্ধভাবে অর্জিত স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আনতে এই নির্বাচনকে আন্দোলন হিসেবে বিজয়ী হতে হবে।’

আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য খালেদা জিয়ার নির্দেশের কথা তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমি যখনই দেখা (কারাগারে) করতে গেছি তিনি (খালেদা জিয়া) একটি কথা-ই বলেছেন- আমরা যেন সরকারের ফাঁদে পা না দিই। প্রতিবারই বলেছেন ঐক্যে অটুট থাকতে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়। শেষবার বলেছেন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে যাবার জন্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা সকল রাজনৈতিক দলের কাছে গেছি। গেছি বি চৌধুরী সাহেবের কাছেও। কিন্তু আমাদের হয়তো দুর্ভাগ্য তাকে বোঝাতে পারিনি।

‘তবে আমাদের সঙ্গে এখন ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মুনসুর, অলি আহমেদ আছেন। যাদের সবাই পছন্দ করেন এবং বিশ্বাস করেন।’

সম্প্রতি ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি কথায় আহত হয়েছি। তিনি অনেক কথা-ই বলেন। সব কথার আমি উত্তর দিই না, প্রয়োজনও মনে করি না। কিন্তু তার একটি কথায় আমি আহত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি। তিনি বলেছেন, সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন ধানের শীষে। কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মুক্তিযোদ্ধারা আমি সকলেই সাম্প্রদায়িক শক্তি। আমি এই কথার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সম্প্রদায়িক শক্তিকে আপনারই প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদেরের প্রতি উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা তো জরিপে এগিয়ে আছেন। তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন দিতে ভয় কিসের? আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

এ সময় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ফখরুল বলেন, ইভিএম ব্যবহার করে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশানের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া প্রমুখ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও বক্তব্য দেন মহাসমাবেশে। কালের কণ্ঠ অনলাইন