মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডাজনিত অ্যালার্জির কারণ এবং করণীয়

news-image

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সাধারণত শীত মৌসুমে কিছু উপসর্গ দেখা দেয় কোল্ড অ্যালার্জি বা শীত সংবেদনশীলতা। অনেক সময় দেখা যায়, শিশু বা বয়স্করা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বা পুরো শীতে অসুস্থ থাকেন। এর বেশিরভাগই হয়ে থাকে কোল্ড অ্যালার্জির কারণে। সাধারণত ঠাণ্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোঁয়া, সুগন্ধি, তীব্র দুর্গন্ধ, পুরনো পত্রিকা বা বই-খাতার ধুলা (যাতে মাইট থাকে), ফুলের রেণু, মোল্ড ইত্যাদি অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। এসবের কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যাজমা, সর্দি ইত্যাদি দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম অ্যালার্জেন। অ্যালার্জেনজনিত এ উপসর্গই হলো অ্যালার্জি। আমাদের নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালিতে স্নায়ুকোষের কিছু রিসেপ্টর আছে। এগুলো ভ্যাগাস নার্ভের সঙ্গে যুক্ত।
অ্যালার্জেনগুলো শ্বাসনালির রিসেপ্টর নার্ভ উদ্দীপ্ত করে। ফলে শ্বাসনালির মাংসপেশির সংকোচন ঘটে এবং শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়। তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি দেখা দেয়।

যাদের বেশি হয় : সাধারণত খুব কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। তবে যে কোনো বয়সীর এ সমস্যা হতে পারে।

হওয়ার কারণ : শীতকালে কেন এ উপসর্গ বেশি হয়, তা এখনো অজানা। তবে অনেক রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে কিছু জিনিস চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছেÑ আবহাওয়ার অবস্থা, দ্রুত তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা মোল্ড ও মাইটের বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী, যা শীতকালীন রোগগুলোর কারণের অন্যতম।

উপসর্গ : নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক চুলকায়, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বাঁশির মতো আওয়াজ বের হওয়া, বুক চেপে আসা ইত্যাদি।

করণীয় : যে কারণে এ উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তা পরিহার করে চলা উচিত। ঠাণ্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পেতে এক ধরনের মুখোশ বা মুখবন্ধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখের অর্ধাংশসহ মাথা, কান ঢেকে রাখা। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সালবিউটমল ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ভালো থাকার জন্য স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। যে অ্যালার্জেন পুরোপুরি পরিহার করা সম্ভব নয় অথচ শ্বাসকষ্টের জন্য বহুলাংশে দায়ী যেমন- মাইট, মোল্ড, পোলেন বা পরাগ রেণুর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকা যায়। ভ্যাকসিন পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার অনেক কমে যায়। ফলে কটিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিত্রিুয়া থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
লেখক : অধ্যাপক ডা. গোবিন্দচন্দ্র দাস, অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ