মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নিপীড়িত প্রবাসীদের পরম বন্ধু শফিকুল ইসলাম

news-image

ওমান প্রতিনিধি : সফলতা আর ভালো মানুষ হয়ে উঠার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল, সৎ সাহসিকতা আর কঠোর পরিশ্রম। আর এসবের মাধ্যমেই একজন মানুষ হয়ে ওঠে সেরাদের সেরা। ওমানে এমনই একজন মানুষ হলেন সফল বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। যিনি কেবল প্রবাসে একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, একজন পরোপকারী, স্বাধীনচেতা ও নিপীড়িত প্রবাসীদের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

যিনি নিজের ব্যস্ততা ও ব্যবসায়িক কাজের ফাঁকে ওমানে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতা পেতে সহায়তা করা, শ্রমিকদের অধিকার, তাদের সুচিকিৎসা এবং নিপীড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ওমানে পরোপকারী এই মানুষটি লাখো প্রবাসী শ্রমিকের হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে আছেন। ভাগ্য বদলের আশায় দীর্ঘ চার দশক আগে শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দেওয়া শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজের যোগ্যতা, একাগ্রতা আর পরিশ্রমে আজ ওমানে সফল ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

ওমানে ভালোভাবে জীবন-যাপন করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন হাজারো বাংলাদেশিকে। শফিকুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি ওমানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওমান টাইমস’ তাকে ‘পিলার অব বাংলাদেশ’ উপাধি দিয়েছে।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনে শফিকুল ইসলাম ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন। ওমানের জনপ্রিয় সংগঠন ‘স্যোশাল ক্লাব ওমানের’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সংগঠনটির কোষাধাক্ষ পদ থেকে শুরু করে নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সোস্যাল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় অসহায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ফ্রি চিকিৎসা, জেলে থাকা অসহায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশে যেতে ফ্রি টিকেটের ব্যবস্থা করা, প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানো থেকে শুরু করে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন বহু প্রবাসীকে। ২০১৬ সালে ওমানে এক বাংলাদেশির হার্ট অপারেশনের প্রায় ১২ লাখ টাকা বিল মওকুফ করার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি নিজেই।

ওমানে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন এমন বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওমানে বাংলাদেশিদের অসহায়ত্বে রাত-দিন কাজ করেছেন। বিপদগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া থেকে শুরু করে দুর-দুরান্তে ছুটে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান।’

‘এমনকি সুলতান কাবুস ইউনিভার্সিটির ডিনস কমিটি থেকে শুরু করে, প্রেসক্লাব, স্টেশনারি দোকানিদের কাছে তার ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায়। কোনো মানুষ বিপদে তার কাছে ছুটে গেলে খালি হাতে ফিরেছেন এমন নজির নেই।’

ব্যবসায়ী হিসেবে শফিকুল ইসলাম খ্যাতি পাওয়ার আগে ওমানের যুব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৯৮৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন। ২০০৮ সালের পর কর্মক্ষেত্রে ওমান সরকার দেশটির নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে চাকরি চলে যায় তার। এরপর শুরু করেন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা। ওমানে ‘নিউ স্টার ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামে তার প্রতিষ্ঠান আজ সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

ওমানে বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ওমানে প্রবাসী নাগরিকদের দিক থেকে আমাদের অনেক সম্ভাবনা থাকলেও, সেটি কাজে লাগাতে পারছি না। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওমানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যদি আরও একটু এগিয়ে আসতো তাহলে ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করা যেতো।’

শফিকুল ইসলাম ওমানে মন্ত্রী পরিষদ ও লেবার কোর্টের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতায় দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও গভীরভাবে কাজ করার কথা জানান।

কুমিল্লা জেলার কৃতি সন্তান শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার কর্মকাণ্ডে আজ ওমানজুড়ে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এমনকি প্রবাসী কমিউনিটির কাছে তিনি এখন অসহায় বাংলাদেশিদের পরম বন্ধু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।