বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

news-image

নিউজ ডেস্ক : আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরারাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকাল তিনটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় জানায়, ‘আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। এই শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। কাল থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেবো।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় জানায়, ‘আমাদের কোনও নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এই ঘটনায় হেনস্থা না হয় আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বরখাস্ত শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলবো শিক্ষার্থীরা, তোমরা ক্লাসে ফিরে এসো।’

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে স্কুলের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে এটি ছিল একটি দাবি। শিক্ষার্থীদের অপর দাবি গভর্নিং বডির সকল সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে যদি আমার পদত্যাগ করতে হয় তাহলে অবশ্যই করবো। তাদের দাবির বিষয়টি আমি কমিটির বৈঠকে তুলবো।’

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।

এদিকে গতকাল বুধবার (৫ ডিসেম্বর) গভর্নিং বডির সদস্যরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী শনিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া বুধবারের (৫ ডিসেম্বর) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর)। আর বৃহস্পতিবারের (৬ ডিসেম্বর) পরীক্ষা হবে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যে ৬টি দাবি করেছিল, সেগুলো হচ্ছে:
(১) অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
(২) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) কোনোভাবেই কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না।
(৪) কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।
(৫) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।
(৬) গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।