বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলেই দেশের উন্নতি হতে পারে’

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার তাঁর ভোটের অধিকার। যাকে খুশি তাকে তারা ভোট দেবে। গণতান্ত্রিক ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে। আর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলেই দেশের উন্নতি হতে পারে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন এবং প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারাই ক্ষমতায় আসুক যে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করলেই দেশ উন্নত হবে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি। এরই অংশ হিসেবে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন এবং প্রশাসন কোর্সে অংশ নেন ১১৬ জন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের হাতে সমাপনী সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাখা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজের ভাগ্য গড়তে যতটা ব্যস্ত ছিল দেশের জন্য ততটা নয়। ব্যতিক্রম ছিল শুধু আওয়ামী লীগ। গেল ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়নই যার প্রমাণ বলেও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।’

যদিও ২০১৪ সালে মানুষ হত্যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার যে বীভৎস চিত্র আমরা দেখেছি, এ বীভৎসতা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে সেটা বিশ্বাসযোগ্য না। কিন্তু সে ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে সেই ২০১৪-১৫ সালে। আমরা চাই না এ ধরনের কোনো ঘটনা ভবিষ্যতে আর কোনোদিন বাংলাদেশে ঘটুক।’

নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার সিদ্ধান্তই বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছিল বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে ও প্রতিজ্ঞা থাকলে সবসময়ই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়নের পরিকল্পনাই আমি তৈরি করে রেখে গেলাম। যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে, যারা দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্রের, যারা দায়িত্ব নেবে সরকারের তাদের এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি এমনভাবে পরিকল্পনা রেখে যাচ্ছি এ দেশকে আর যেন পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।’

প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে থাকতে ‘ফাইভ জি’ সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে মানুষের সেবা করতে উপস্থিত সবাইকে নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।