বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা!

news-image

নিউজ ডেস্ক : ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে রক্তারক্তির ঘটনা এড়াতে ঐহিত্যবাহী দেওবন্দ মাদ্রাসার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার অনুমতি দেবে সরকার। বিরোধপূর্ণ তাবলিগের একাংশের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির পক্ষে আলাদা বিশ্ব ইজতেমা হবে কিনা সে বিষয়েও চূড়ান্ত মতামত দেবে ভারতের উত্তর প্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য যুবায়ের ও সাদপন্থি তাবলিগ-জামায়াতের মুরব্বিদের নিয়ে গঠিত আলাদা প্রতিনিধি দল খুব শিগগির সেখানে যাবেন।

বিবদমান দুটি গ্রুপকে নিয়ে গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলাদাভাবে বৈঠক হয়। এতে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল উভয়পক্ষের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিদের কাছে দেওবন্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তার এ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেন। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আমাদের সময়কে বলেন, ‘দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকেই তাবলিগ বা বিশ্ব ইজতেমার সৃষ্টি।

উভয়পক্ষই কিন্তু দেওবন্দকে মানে। তাই আমরাও বলেছি আপনারা যার যার মতো করে সেখানে যান। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি দল সেখানে যাবে। এর পর দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবেই ইজতেমা হবে। হতে পারে সেটা ফেব্রুয়ারিতে।’ মাওলানা সাদ কান্ধলভির (সাদ) পক্ষের আলাদা ইজতেমা হবে কিনা সে বিষয়েও দেওবন্দের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সূত্র জানায়, প্রথমে সকালে সাদপন্থিদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে তারা আলাদাভাবে আগামী ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি টঙ্গী মাঠে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে সারাদেশ থেকে সাদ সমর্থিত মুসল্লিদের নির্বিঘেœ মাঠে আসা-যাওয়া এবং ইজতেমা চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দাবি করা হয়। বৈঠক শেষে তারা বেরিয়ে গেলে একইকক্ষে বসেন তাবলিগ-জামায়াতের মূলধারা হিসেবে পরিচিত যুবায়েরপন্থিরা।

এ সময় তারা বিভক্ত সৃষ্টি না করে ঐতিহ্যগতভাবে পূর্বঘোষিত ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা করার পক্ষে মত দেন; যাতে করে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ইজতেমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটা থাকে। তবে এ ক্ষেত্রেও দেওবন্দের সিদ্ধান্তের ওপর জোর দেন মন্ত্রী। যদিও এ বৈঠকে গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ বা আটক-গ্রেপ্তার নিয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তেমন জোরালো দাবি তুলে ধরা হয়নি।

কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা যুবায়ের বলেন, ‘গত বছরই আমরা ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ইজতেমার সময় চেয়েছিলাম। আমাদের সে ধরনের প্রস্তুতিও আছে। ওনারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) বলেছে আগে দেওবন্দ হয়ে আসতে।

তাই আমরা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতে যাব।’ সাদপন্থি মুরব্বি ও ঢাকা জেলা তাবলিগ নেতা আকরাম বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আমাদের সঙ্গে আছেন। তাদের নিয়ে আমরা ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আলাদাভাবে ইজতেমা করতে চাচ্ছি। তবে মন্ত্রীর পরামর্শে আমাদের প্রতিনিধি দল ১৫ জানুয়ারি দেওবন্দে যাবে। তখনই তারিখ ঠিক করা হবে।’

জানা গেছে, দেওবন্দ মাদ্রাসা নিজামুদ্দীন মারকাজ (কেন্দ্র) থেকে বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাত ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করছে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদকেন্দ্রিক বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের মারকাজ।

মসজিদটির ইমাম ও খতিব মাওলানা যুবায়েরের নেতৃত্বে টঙ্গীর ইজতেমা হয়ে আসছিল। কিন্তু নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিরুদ্ধে দেওবন্দ মাদ্রাসার শূরাবিরোধী কার্যক্রম, শূরা ভেঙে একনায়কতন্ত্র কায়েম, তাবলিগ কাঠামো পরিবর্তন ও ইসলাম নিয়ে মনগড়া বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ আনা হয়। সেই সঙ্গে ইজতেমায় তার যোগদানে বাধা দেয় যুবায়েরপন্থিরা। তবে অন্যপক্ষ সাদকে আনতে একাট্টা। এতে করেই বাংলাদেশে দুটি গ্রুপ দৃশ্যমান হয়। টঙ্গীর সংঘর্ষের পর সাদপন্থি আখ্যায়িত করে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, ড. কাজী এরতেজা হাসানসহ কয়েকজনের ফাঁসি চেয়ে রাজধানীতে পোস্টারও সাঁটানো হয়। যদিও ফরিদ উদ্দিন মাসউদ নিজেকে মূলধারার এবং উভয়ের বলে দাবি করেছেন।আমাদের সময়