সোমবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কাঁদতে কাঁদতে বিদায় জানালেন মারে

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : চারজনকে একসঙ্গে বলা হয় ‘বিগ ফোর’—রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ আর অ্যান্ডি মারে। যদিও প্রথম তিনজনের দ্যূতির সামনে শেষের জন কিছুটা অনুজ্জ্বল ছিলেন বটে। কিন্তু স্বমহিমায় নিজেকে চেনাতে কোনো ছাড় দেননি ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারে। অথচ সবার পরে টেনিসের ঝলমলে আসরে পা দেওয়া অ্যান্ডি ব্যারন মারেকে টেনিস কোর্ট থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে সবার আগে! তিনবারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী মারেকে এ বছরের উইম্বলডনের পর আর দেখা যাবে না টেনিস কোর্টে।

টেনিস খেলোয়াড়দের চোটের সমস্যা নতুন কিছু নয়। ক্রীড়াজগতে অন্যতম দ্রুততম খেলা হওয়ায় শরীরের ওপর খুব বেশিরকম ধকল যায় খেলোয়াড়দের। তাই চোট খেলোয়াড়দের নিত্য সঙ্গী। দুই বছর আগেও টেনিসের ‘বিগ ফোর’-এর সবাই চোটের কারণে বাইরের ছিলেন একসঙ্গে। ফেদেরার তো বলেই দিয়েছিলেন, একসঙ্গে চারজনকে আর নাও দেখা হতে পারে। কিন্তু প্রথম তিনজন দোর্দণ্ড প্রতাপে ফিরে এসেছেন। মারে পারলেন না। কোমরের চোটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের লড়াইয়ের পর হার মানতে হলো ‘নাইট’ খেতাব পাওয়া এই ব্রিটিশকে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রস্তুতি ম্যাচে জোকোভিচের কাছে ৬-১, ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে কোর্ট থেকে উঠে গিয়েছেন মারে, তবে প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে আসা লোকেদের পয়সা উশুল ধ্রুপদি ম্যাচ উপহার দিয়েছেন দুজনে। সংবাদ সম্মেলনে আসা সাংবাদিকেরা অবশ্য তেমন কিছু আশা করছিলেন না। চোটের কারণে হয়তো আরেকটি গ্র্যান্ডস্লামে বসে থাকতে হতে পারে মারেকে, বড় জোর এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু মারে সংবাদ সম্মেলনে ঢুকেই দুই মিনিটের মাথায় কাঁদতে কাঁদতে কিছু না বলেই বেরিয়ে গেলেন! তখনো অনেকে বুঝতে পারেনি কী আসছে!

মারে এরপর নিজেকে শান্ত করে জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত, ‘আমি খুব একটা সুস্থ না। অনেক দিন ধরেই এই লড়াই চলছে। এই ব্যথা নিয়ে আছি প্রায় ২০ মাস। আমি আমার যা কিছু সম্ভব তার সবই করেছি কোমরের চোট কাটিয়ে উঠতে। আসলে ব্যথাটা অনেক বেশি, চিন্তাও করা যায় না এমন। আমি জানি না কবে এই ব্যথা কমবে। আদৌ কমবে কি না, তাও জানি না।’ এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে যান অ্যান্ডি মারে। তাহলে সিদ্ধান্তটা কী? এমন প্রশ্নের জবাবে জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেন মারে, ‘আমি উইম্বলডন খেলতে চাচ্ছি। উইম্বলডনেই আমি থামতে চাই। কিন্তু জানি না, এই চোট, এই পরিমাণ ব্যথা নিয়ে আমি আগামী ৬ মাস সুস্থ থাকতে পারব কি না। আমি এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

পরিবারের বিষয়টিও খুবই বড় করে দেখছেন মারে, ‘কিছু চিন্তার বিষয়ও আছে। আরেকটি অস্ত্রোপচার আমাকে সাময়িকের জন্য আরেকটু সুস্থ করতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। সেটি করলে আমি আরেকটু সুস্থ হতে পারব। আমার পরিবারের সঙ্গে একটা ভালো জীবন কাটাতে পারব।’

গত জানুয়ারিতেই অস্ত্রোপচারের টেবিল থেকে ফিরেছেন মারে। জুনে কোর্টে ফেরত আসার পর থেকে মাত্র ১৪ টি ম্যাচ খেলেছেন মারে। এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ৩১ বছর বয়সী তারকার প্রতিপক্ষ স্প্যানিশ বাতিস্তা অ্যাগুত। ২২তম বাছাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু করবেন মারে। নাদাল-ফেদেরার-জোকোভিচের যুগে টেনিসে অভিষেক তাঁর। নিজ যোগ্যতায় জিতেছেন ৩টি গ্র্যান্ডস্লাম। ৭৯ বছর পর গ্রেট ব্রিটেনকে এনে দিয়েছেন ডেভিস কাপের শিরোপাও। তাও বেলজিয়ামের মাটিতে বেলজিয়ামকে হারিয়ে।