রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ওভারটাইম ও বিদেশে মিশনে যাওয়াসহ বিভিন্ন দাবি

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওভারটাইম ও বিদেশে মিশনে যাওয়াসহ বিভিন্ন দাবি করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব দাবি করেন তারা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের এসপি ও তদূর্ধ্ব অফিসারদের এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পুলিশের একজন ডিআইজি ও এসপি, ৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ওভারটাইম দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে পুলিশ সদর দফতরের অধীনে আনার দাবি জানান মুন্সিগঞ্জের এসপি।

কক্সবাজারে এসপি বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্ব পালনকারী সব পুলিশ সদস্যদের আলাদা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরেক এসপি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাদক উদ্ধার করলে অর্থ পুরস্কার পান। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে পুলিশও যেন আনুপাতিক হারে অর্থ পেতে পারে এ ধরনের সুবিধা প্রদান করা হোক।

অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিদের দেশে পাঠানোর জন্য পৃথক ডেপুটেশন সেন্টার এবং তাদের বিদেশে পাঠানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়ার দাবি করেন একজন ডিআইজি।

একজন এসপি এবং ঢাকার একজন ডিসি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে মোট ১০টি অথবা প্রতিটি বিভাগে হেলিকপ্টার প্রদান এবং হেলিকপ্টার স্কোয়াড গঠন করতে হবে।

একজন এসপি বলেন, প্রতি জেলায় একটি করে সাঁজোয়া যান (এপিসি) দিতে হবে। এ ছাড়াও জেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় সভাপতির দায়িত্ব দিতে হবে এসপিকে।

একজন ডিআইজি বলেন, বিদেশের বিভিন্ন মিশনে পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করতে হবে। মাদক মামলার আলামত দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এয়ারপোর্ট এপিবিএনের জন্য ৪৬০ জন জনবল দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিও লেটারের মাধ্যমে থানার ওসি নিয়োগ না করার আহ্বান জানান নারায়ণগঞ্জের এসপি।

সভায় আইজিপি বলেন, মাদকের সাথে বা অন্য কিছুর সাথে যদি পুলিশ সদস্যরা জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বলবৎ থাকবে।

সবার কথা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশের নিরাপত্তার জন্য এত কষ্ট করছেন আপনাদেরকে ধন্যবাদ। আপনাদের দাবি-দাওয়াগুলো আমি শুনলাম, এগুলো যৌক্তিক। আশা করি, আপনারা এগুলো পাবেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন- যে যে ইউনিটের যত জনবল দরকার সেগুলো জানালে তিনি সেগুলো দিয়ে দিবেন।’

পুলিশের এক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করি এগুলোর কোনো সেল ভ্যালু নেই। তাই আমরা এগুলো ধ্বংস করে ফেলি।’

তিনি আরও বলেন, বিদেশি আসামিদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। এ ছাড়াও ৩৫ লাখ মামলা জট নিষ্পত্তির জন্য আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেরই বিসিএস পাশ করে স্বপ্ন থাকে এসপি হওয়ার। তাই এসপিদের মেয়াদ ও দায়িত্ব নিয়ে কিছু বিধান তৈরির জন্য আমি আইজিপিকে বলেছি। আশা করি সেটা হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজারবাগের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি পুলিশের কল্যাণ সভায় যোগ দিয়ে পুলিশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শোনেন এবং সেগুলো পূরণের আশ্বাস দেন। জাগো নিউজ