শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডা. জাফরুল্লাহ বললেন, ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে নতুন জীবন দিয়েছে

news-image

নিউজ ডেস্ক : ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে নতুন জীবন দিয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট না হলে তারা রাস্তায় বের হতো পারত না। ড. কামাল হোসেন সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। তবে শেখ হাসিনা কথার বরখেলাপ করেছেন। তিনি কোনো কথা রাখেননি। শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করেছিলাম আমরা। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন যাওয়ায় ২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত যে সত্য ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। এটাতে বিএনপি লাভবান হয়েছে।

বিএনপিকে ভারত থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ভারত একটি আজব দেশ। যেখানে দুধের চেয়ে গো-মুতের মূল্য বেশি। সে দেশে গিয়ে নাকি আমাদের দেশের ১৮০০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভারতে ট্রেনিং নেবেন। কী নেবেন? সে দেশ থেকে বাংলাদেশ কী শিখবে?

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ’ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ সব কথা বলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে আন্দোলন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা না বললে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হয়ে যাবেন। আপনি (তারেক) লন্ডনে বসে স্কাইপিতে কথা বলবেন ঠিক আছে। তবে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বসেন। তা না হলে ভুল ভ্রান্তি হবে। আপনি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীদের ধৈর্য ধরতে হবে। রিজভীর মাধ্যমে মিটিং না করে সিনিয়র নেতাদের ডাকেন। আপনি আরেকজন রিজভী হয়ে যাবেন না। এই রকম রিজভীর মাধ্যমে মিটিং ডাইকেন না। সরাসরি মিটিং ডাকেন। মোশাররফ- মওদুদ এদের সামনে রাখুন। তাহলেই দেখবেন আন্দোলনটা গড়ে উঠবে। আগামীতে প্রত্যেক দিন মিছিল করেন। রাস্তায় থাকেন। আজ বিকালে এখানে এক হাজার মহিলার জমায়েত হতে পারে। সবাই রাস্তায় বসে থাকেন। এরপরও কিছু না হলে রাস্তায় বসে খোদার কাছে মোনাজাত ধরেন। একদিন বিএনপি, আরেকদিন ছাত্রদল, তারপর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল- এভাবে টানা ১৭দিন মাঠে থাকেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি অবশ্যই হবে। রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিএনপি নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আপনাদেরকে রাস্তায় থাকতে হবে। আমি খুশি হতাম আজকে যদি বিএনপির এক হাজার মহিলা এখন দুই ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতেন, এক হাজার মহিলা ৫০টা ট্রাক নিয়ে ঢাকা শহরে প্রদক্ষিণ করে একটা স্লোগান দিতেন- গণতন্ত্র চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনকে দিয়ে যেভাবে ভোট ডাকাতি করিয়েছেন, কিছু দিন পরে যখন ডিসি বনাম এসপি লেগে যাবে, তখন সামলাবেন কেমনে? তাই বলছি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি আর একটা সংলাপ ডাকেন। পরিষ্কার করে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে কোনও প্রতিবন্ধকতা করবেন না। পরিষ্কার করে বলে দেন, এদিকে কোনও নাক গলাবেন না। বিচারকে বিচারের মতো চলতে দেন। তারপর দেখি খালেদা জিয়ার মুক্তি হয় কিনা।