মঙ্গলবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের প্রেরণা হোক কার্ডিফের জয়

news-image

খেলা ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘আন্ডারডগ’, এটা স্বয়ং স্টিভ রোডস মেনে নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পেসবান্ধব উইকেটে স্বাগতিকদের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়াটাই ভালো। অঘটনের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ কোচের অবশ্য অনুপ্রেরণার অভাব নেই। দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে যে বাংলাদেশই এগিয়ে। সর্বশেষ দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছে।

শুধু ম্যাচ জিতেছে বলে শেষ করে দিলে একটু অন্যায় হয়ে যায়। কারণ, পরিসংখ্যান কিংবা আইসিসির রেটিং জয়ের মাঝে তফাত না করলেও বাস্তবে দুটি ভিন্ন ম্যাচের জয়ের গল্পেও ভিন্নতা থাকে। নিজ কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে হারানো আর সম্পূর্ণ বিপরীত কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের শক্তির সামনে পরীক্ষা দিয়ে পাওয়া জয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ দুটি জয়ই তেমন কঠিন পরীক্ষায় পাস করে, পেসবান্ধব উইকেটে গতি ও সুইং সামলে।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ডে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরেছিল ৪ উইকেটে। কিন্তু এর শোধ নিতে খুব দেরি হয়নি। ডাবলিনে ২৪ মের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৭০ করেছিল নিউজিল্যান্ড। স্কোরটা আরও অনেক বড় হতে পারত। কিন্তু স্লগ ওভারে সাকিব, মাশরাফি, রুবেলদের দারুণ বোলিং নিউজিল্যান্ডকে খুব বেশি এগোতে দেয়নি।

বোলারদের এমন পারফরম্যান্স বৃথা যেতে দেননি ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। তামিম (৬৫) ও সাব্বিরের (৬৫) দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে চলে এসেছে। ১৩৭ রানের সে জুটির পর একটা ধস নেমেছিল বাংলাদেশের ইনিংসে। ১৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশকে লক্ষ্যচ্যুত হতে দেননি ম্যাচসেরা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। রান ও স্ট্রাইকরেটে মুশফিকের চেয়ে এগিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহই (৪৬*)। কিন্তু ধসের মুখে পড়েও ম্যাচ বের করে আনা ইনিংসটি ছিল মুশফিকেরই (৪৫*)। ১০ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

ডাবলিনের ওই জয়টি মানুষ খুব একটা মনে রাখেনি। আর ৪-৫টা জয়ের মতোই যে সে জয়। কিন্তু ১৫ দিন কার্ডিফে পরের ম্যাচের গায়ে সে তকমা জোটানোর সুযোগ নেই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এবার ৫ রান কম করেছিল নিউজিল্যান্ড। এবারও ভালো অবস্থানে স্লগ ওভার শুরু করা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বোলারদের সামনে নতজানু হয়েছে। মোসাদ্দেক হোসেনের ৩ ওভারের এক স্পেল ও তাসকিন-মোস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়ের আশা নিয়েই ব্যাট করতে যাওয়ার সুযোগ পায় দল।

ব্যাট করতে নামার আধ ঘণ্টার মধ্যেই সব আশা উধাও হওয়ার জোগাড়। ১২ রানে ৩ উইকেট হারানো দল মুশফিককে হারায় ৩৩ রানে। এরপরই বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা জুটির দেখা মিলল। ভয়ংকর কন্ডিশনে একটু আগেও যে ব্যাটিং লাইনআপ কাঁপছিল, সূর্যের দেখা মিলতেই বদলে গেল সেটা। আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়েই নিউজিল্যান্ডের পেসারদের জবাব দিলেন সাকিব। অন্যপ্রান্তে মাহমুদউল্লাহও তাই। ধীরে ধীরে জুটিতে এল ৫০ রান। সেটা ১০০ পেরোল ১০৪তম বলেই।

জুটির রান দেড় শ যখন পেরোল, বল ও রানের ব্যবধান ততক্ষণে আরও কমে এসেছে। ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান তোলা বাংলাদেশ ৪১তম ওভারেই ২০০ ছুঁয়ে ফেলল। সাকিব-মাহমুদউল্লাহর এ পথচলা থামল ৪৭তম ওভারে। ততক্ষণে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জুটির রেকর্ড (২২৪) দুজনের দখলে নেওয়া হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জয়টাও তখন হাতের নাগালে। সাকিব (১১৪) আউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ বাকি দায়িত্ব সেরে নিয়েছেন। ১৬ বল আগেই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন অনেক দিন মনে রাখার মতো এক জয়। হার না মানা ১০২ রানের ইনিংস খেলে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন অনুমিতভাবেই সাকিব।

নিউজিল্যান্ডে সাকিবকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফলে কাজটা এমনিতেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবু কার্ডিফের সে জয়টা তো দেখিয়ে দিয়েছে বিরুদ্ধ পরিস্থিতি আর অপরিচিত কন্ডিশনেও বাংলাদেশ এখন ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছে। এ জয়ই কাল অনুপ্রেরণা হোক।