শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

২৫ মার্চ : নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বর হামলা

news-image

যুদ্ধের কোনো দামামা বাজেনি সেদিনও। তবুও যুদ্ধ। ঘুমন্ত নগরবাসী। তবুও সর্বশক্তি প্রয়োগ সামরিক জান্তার। দুনিয়ার যুদ্ধ ইতিহাসের এমন কলঙ্কময় অধ্যায় আর দ্বিতীয়টি হয়নি, যা করেছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। রক্তের হলি খেলায় উম্মাদ বনে যাওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে সমস্ত মানবিকতা পরাজিত হয়েছিল সেদিন। একই রাষ্ট্র, একই শাসক। তবুও হিংস্রতায়, ক্ষিপ্রতায় কোনো কমতি ছিল না ইয়াহিয়া সরকারের।

লাশের গন্ধ আর স্বজন হারানোর আহাজারিতে সেদিন ঢাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রে থেকেও সেদিন রাষ্ট্রহীন হয়েছিল বাঙালিরা। খোদ রাষ্ট্রই নিপীড়নের দেয়াল তুলে দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, ভোটের অধিকার চাওয়া দলিত এ জনগোষ্ঠীর ওপর।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বামপন্থি এ রাজনীতিক।২৫ মার্চ ঢাকার হাতিরপুল সংলগ্ন একটি বাসায় অবস্থান করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ওই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী এ রাজনীতিক বলেন, ‘সে দিনের বিভৎস্যতা কোনো ভাষায় বর্ণনা করবার নয়। একটি নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর এভাবে হামলার ঘটনা পৃথিবীতে আর হয়েছিল কিনা জানা নেই।’

স্মৃতিচারণ করে সেলিম বলেন, ‘চারাদিকে হত্যা আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষ দিশেহারা। সত্যি কথা, সেনা অভিযানে যে এমন হত্যাযজ্ঞ হবে তা কল্পনা করতে পারিনি। মধ্যরাত থেকেই কারফিউ চলছিল। বাইরে বের হলেই গুলি করা হচ্ছিল। বস্তি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছিল। গণহত্যা শুরু হয়ে গিয়েছিল ২৫ মার্চ মধ্য রাত থেকেই।’