শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে ভাঙারি দোকানে ৩৮ মণ বিনা মূল্যের বই

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক ভাঙারির দোকানে ৩৮ মণ সরকারি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলা সদরের তিতাস নদীর তীর সংলগ্ন শহীদ মিয়ার ভাঙারি দোকানে শনিবার দুপুরে একাধিক ভ্যানগাড়ি থেকে অসংখ্য বই নামাতে দেখে স্থানীয়রা। এরপরই বইগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়।

বইগুলো উপজেলার ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আনা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসব বইয়ের মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের অনেক বইও রয়েছে।

ভাঙারি দোকানি শহীদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ১২ টাকা কেজি দরে প্রায় ১৮ হাজার টাকায় তিনি প্রায় ৩৮ মণ ওজনের বই হকার দিয়ে নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কিনে এনেছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন বলেন, সরকারি যেকোনো জিনিস নিলাম ছাড়া বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকারি বই যদি ২০১৫ সালের আগেরও হয় সেক্ষেত্রেও একটি কমিটির মাধ্যমে যথাযথ অনুমতি নিয়ে এসব বই বিক্রি করা দরকার ছিল।

নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার বেগম বলেন, স্টোররুম থেকে পুরাতন বই খাতা সরানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল নীহার রঞ্জন চক্রবর্তীকে। কিন্তু বই বিক্রি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নীহার রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ ছাড়া আমি বই বিক্রি করব সেটি কি কেউ বিশ্বস করবে? উনি বইগুলো বিক্রির জন্য বলেছেন।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইয়ের বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।