শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে দুর্ঘটনাপ্রবণ ৪৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত, আন্ডারপাস-ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুপারিশ ডিএমপির

news-image

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়, তার অধিকাংশ পথচারী। পথচারীর হাঁটা বা রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। এমন ৪৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে ডিএমপি। এসব পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ, কোথাও আন্ডারপাস, আবার কোথাও জেব্রা ক্রসিং নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। বণিক বার্তা

দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোর একটি কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনের সামনের সড়ক। গত ২ সপ্তাহে রাস্তা পার হতে গিয়ে এখানে নিহত হয়েছেন ২ পথচারী। কয়েক দিন পর পরই এখানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। একই অবস্থা রামপুরা এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কেও। এর বাইরে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো ফ্যাক্টটির সামনে, কাকলী ও গুলশান-১ ক্রসিংয়েও প্রায়ই দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে পথচারী। মেরুল বাড্ডার বৌদ্ধমন্দিরের সামনের সড়কটিও দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএমপি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ঢাকায় ২৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৬ জন নিহত ও আহত হন আরো ৫৩২ জন। এসব দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ ঘটেছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে।ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেন, যেসব পয়েন্টে অতিমাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুপারিশও করা হয়েছে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকায় কিন্তু অনেকগুলো ফুটওভার ব্রিজ আছে, যেগুলো ব্যবহার হয় না। এসব ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। আন্ডারপাসগুলো পথচারীরা ব্যবহার করতে চায় না। কোথাও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া, কোথাও নিরাপত্তার অভাব, আবার কোথাও শুধু মানুষের অসচেতনতার কারণেও অনেক ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার হচ্ছে না। তাই শুধু অবকাঠামো বানালেই হবে না, সেগুলোয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। এগুলো হতে হবে পথচারীবান্ধব। পাশাপাশি এসব অবকাঠামো ব্যবহারে মানুষকেও সচেতন হতে হবে।