বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী “শুঁটকি মেলা ও বিনিময় প্রথা”

news-image

আকতার হোসেন ভুইয়া, নাসিরনগর  : চিরাচরিত বাংলা পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী যুগ যুগ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা ওও “বিনিময় প্রথা” । পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় আজ রবিবার(১৫ এপ্রিল) কুলিকুন্ডা গ্রামে জমে উঠে দিনব্যাপী এ শুটকি মেলা। স্থানীয় জনগনের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় দুইশ বছরেরও অধিক সময় ধরে এ মেলা বসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও বাহারি শুঁটকির আকর্ষণে দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরা মেলায় আসেন শুটকি কিনতে। পছন্দের শুঁটকি ক্রয় করে তারা তৃপ্ত হন।

প্রায় দুই শতাধিক নানান জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। এসব পসরায় ছিল বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি ও টেংরাসহ নানান জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এমন কোন জাতের শুঁটকি নেই যা পাওয়া যায় না। তবে দেশী মাছের শুঁটকির প্রাধান্যই বেশী। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি উঠে। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। সামুদ্রিক অনেক বিরল জাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুটকি উঠেছে এই মেলায়। শুঁটকি ছাড়াও এ মেলায় আরেকটি বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে “বিনিময় প্রথা” অথ্যাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য।ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে। আর এ কারণেই ধারণা করা হয় এই মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো। মেলায় শুটকি কিনতে আসা জেঠাগ্রামের নাসির মিয়া(৭০) জানায়, জানায়, আমি যখন ছোট তখন বাপ-দাদার সাথে এ মেলা এসেছি। আর এখনও শুটকি নেয়ার জন্য মেলায় আসি। কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার বাচ্চু ভুইয়া(৬৫) জানান,শত বছরের বেশী সময় ধরে নিয়মিত ভাবে এই মেলা বসছে।

এখনো বহু পুরনো প্রথা প্রচলন থাকায় আমরা ধারণা করছি, এ মেলা আদিম কালের। আলু, ডাল,সরিষা, পেয়াজ,রসুনসহ এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি ক্রয় করেন। তবে রীতি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, একদিনে লাখ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। মেলা আয়োজনের কোন কমিটি নেই। তারপরও মেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। শুঁটকি বিক্রির লাখ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরেছে। এছাড়াও মেলায় গৃহস্থালী পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রি হয়েছে। এবারের মেলায় প্রায় দুইশতাধিক নানা জাতের শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা।তবে এবার শুটকীর আমদানি বেশী হলেও দাম ছিল চড়া।

মেলার পাশাপাশি জুয়াড়ীদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। এতে মেলায় আগতদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়দের মতে ব্যতিক্রম ধর্মী শুটকি মেলার পাশাপাশি পণ্যের বিনিময়ে পণ্য যুগ যুগ ধরে চালু রয়েছে। এই মেলা নাসিরনগরের ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করে। এদিকে উপজেলা সদরের লঙ্গণ নদীর তীরেও একই দিনে বসে “বিনিময় প্রথা” অথ্যাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে। এখানে বিক্রি হয় মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি মাটির হাঁড়ি ও তৈজসপত্র। স্থানীয় কুমারদের হাতের তৈরি হাড়িঁ,পাতিল, কলস,ঝাঁঝর,থালা,ঘটি,বদনা,বাটি ,পুতুল ও প্রদীপ মেলায় মানুষের নজরকাড়ে। গ্রাম্য মেয়েদের সামান্য পয়সা সংগ্রহের জন্য নানা ডিজাইনের মাটির ব্যাংকও বিক্রি হয়েছে এ মেলায়।

এ জাতীয় আরও খবর

মাকে হত্যার পর অস্ত্রের মুখে মেয়েকে ধর্ষণ

সমকামিতায় বাধ্য করায় খুন হন পুঠিয়ার সেই শ্রমিক নেতা

‘ভুল করেছি নুসরাতকে হত্যার হুকুম দিয়ে’

প্রাণের ঘিসহ নিম্নমানের ২১ পণ্যের বিরুদ্ধে মামলা

স্বামীর আকুতি স্ত্রীর ভাড়া করা খুনির হাত থেকে বাঁচতে

‘গোপন অস্ত্র’ আনল অস্ট্রেলিয়া সাকিবকে সামলাতে

বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস নিতে আগ্রহী আরব আমিরাত

২৮ লাখ টাকা খরচ রেলকর্মীর বাসা মেরামতে!

‘আমাকে গর্ভের সন্তানের ক্ষতির হুমকি দিয়ে বাধ্য করা হয়’

যত কুকীর্তি ওসি মোয়াজ্জেমের

শেষ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল

কাজী সমিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি গঠন : মহিউদ্দিন মোল্লা সভাপতি, ভাসানী সাধারন সম্পাদক