বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দিল্লি পারল না পাণ্ডিয়া ভাইদের সঙ্গে

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : ফিরোজ শাহ কোটলায় মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ইনিংসের মাঝপথে আকাশ চোপড়ার টুইট, ‘কোটলার পিচ টি-টোয়েন্টির জন্য নিকৃস্টমানের। মন্থর ও নিচু।’ ভারতের সাবেক এই ওপেনারের কথাকে একেবারে হেলাফেলা করার জো নেই। রান তুলতে বেশ কষ্টই হচ্ছিল মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানদের। ১৭তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোর ৪ উইকেটে ১১৮। কিন্তু চোপড়ার মন্তব্যকে ঠিক ভুল প্রমাণ করা নয়, এমন মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটেও যে রান তোলা যায় তা করে দেখালেন ‘পাণ্ডিয়া ব্রাদার্স’—হার্দিক ও ক্রুনাল। শেষ তিন ওভারে দুজনে তুললেন ৫০ রান। যা ম্যাচে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রাখল।

আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তুলেছিল মুম্বাই। রোহিত শর্মা (৩০) ও কুইন্টন ডি ককের (৩৫) ঝোড়ো শুরুর (৬.১ ওভারে ৫৭ রান) পরও মাঝপথে মুম্বাইয়ের রানের চাকা সেভাবে ঘোরেনি। ২৭ বলে ২৬ রান করা সুর্যকুমার যাদব রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ১৬তম ওভারে যাদব আউট হওয়ার পর হার্দিকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাঁর ভাই ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। হার্দিক তখন ১২ বলে ৯ রানে এক প্রান্তে অপরাজিত। কিন্তু বড় ভাইকে অন্য প্রান্তে পাওয়ার পর জ্বলে উঠলেন দুজনেই। ২৬ বলে তাঁদের ৫৪ রানের বিস্ফোরক জুটিতে শেষ পর্যন্ত লড়াকু সংগ্রহ পায় মুম্বাই। দিল্লি ক্যাপিটালস অবশ্য ভালো শুরু করেও এই রান তাড়া করতে পারেনি। ৯ উইকেটে ১২৮ রানেই থেমেছে দিল্লির ইনিংস।

মুম্বাইয়ের ৪০ রানের এই জয়ে শুধু ব্যাট নয় বোলিং আর ফিল্ডিংয়েও অবদান রয়েছে পাণ্ডিয়া ভাইদের। শিখর ধাওয়ান-পৃথ্বী শ-র ওপেনিং জুটি ভেঙেছে ৬.৩ ওভারে ৪৯ রান তুলেছে। ৩৫ রান করে ফিরে যান ধাওয়ান। রাহুল চাহার তাঁকে তুলে নেওয়ার পর ছোটখাটো মড়ক লাগে দিল্লির ইনিংসে। ১৪ রানের মধ্যে আরও ৩ উইকেট হারায় দিল্লি। ১২ বলের ব্যবধানে এই তিন উইকেট (পৃথ্বী শ, কলিন মানরো ও শ্রেয়াস আয়ার) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। এর মধ্যে মানরোকে (৩) তুলে নেন ক্রুনাল। আর পৃথ্বী শ-র (২০) বেশ ভালো একটি ক্যাচ নেন হার্দিক। পরে ক্রিস মরিসকেও তালুবন্দী করেছেন এই পেসার।

অক্ষয় প্যাটেল ও ক্রিস মরিস ১৯ বলে ৩১ রানের জুটি গড়লেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে দিল্লির। ওভার প্রতি রান রেট ধীরে ধীরে নাগালের বাইরে চলে গেছে। জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে ৭৩ রান দরকার ছিল দিল্লির। এমন সময়ে লাসিথ মালিঙ্গা ও জসপ্রীত বুমরার যৌথ প্রযোজনায় পর পর তিন বলে ৩ উইকেটের দেখা পায় মুম্বাই। ১৭তম ওভারের শেষ বলে মরিসকে (১১) তুলে নেন মালিঙ্গা। বুমরার করা পরের ওভারের প্রথম দুই বলে কেমো পল হন রান আউট আর বোল্ড হন প্যাটেল (২৬)। এরপর আর ম্যাচের কিছু থাকে! শেষ ওভারের খেলা শুরুর আগেই হেরে বসে দিল্লি। কারণ শেষ ওভারে জয়ের জন্য দলটির দরকার ছিল ৫০ রান।

৫ চারে ২৬ বলে ৩৭ রান করা ক্রুনাল বল হাতে ২ ওভারে ৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ১৫ বলে ৩২ রান করা হার্দিক বল হাতে একটু খরুচে। ২ ওভারে ১৭ রানে ১ উইকেট নেন এই পেসার। তবে বুমরা ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৪ ওভারে ১৮ রানে ২ উইকেট নেন এই ‘ডেথ ওভার’ বিশেষজ্ঞ। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকল মুম্বাই। তাঁদের সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে দিল্লি।

এ জাতীয় আরও খবর