বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাঞ্ছারামপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় টেটাবিদ্ধ করাসহ পা কর্তন, অর্ধেক পা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান

news-image

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আবুল বাশারের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে টেঁটাবিদ্ধ করে পায়ের একাংশ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেটে নিয়ে যাওয়া পায়ের একাংশ উদ্ধার করতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ রূপসদী গ্রামে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রূপসদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের কালা মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আবুল বাশারের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই আবুল বাশার ও তার লোকজন আজ শুক্রবার বিকেলে কালা মিয়া(৪৫) ও তার ছেলে বিল্পব মিয়া (১৯) কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে টেঁটাবিদ্ধ করে। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কালা মিয়াকে দুইটি টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত কেটে নিয়ে যায়। কালা মিয়াকে দাঁও দিয়ে কুপিয়ে পায়ের একাংশ নিয়ে যায় এবং তার ছেলে বিপ্লবের দুই পায়ের রগ কর্তন করে দুইটি টেঁটাবিদ্ধ করে ফেলে রেখে যায়। তাদেরকে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনে কালা মিয়া তার ছেলে বিপ্লবের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এবিষয়ে কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা বেগম বলেন,‘‘আমার স্বামীরে বাশার নেতা ও তার ভাইয়েরা মিল্ল্যা বাড়ি থেকে ডাইকা নিয়া চল বিন্দাইয়া আমার জামাইয়ের অর্ধেক পাও কাইট্যা নিয়া গেছে ও আমার ছেলেরে দুইডা চল (টেঁটা) বিন্দাইয়া পাওয়ের রগ কাইট্যা লাইছে। আমি গরীব মানুষ, আমি এইডার একটা বিচার চাই। ’’

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আবুল বাশার বলেন,‘‘আমি ঢাকায় অবস্থান করতেছি, কালা চোরার পা আমি কেটেছি এই অভিযোগ সঠিক না। যতটুকু শুনতে পেরেছি কালা চোরা আমাদের গ্রামের এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিল। সেই বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী ধরে তাকে গণপিটুনি দিয়েছে শুনেছি। তবে পরবর্তীতে কী হয়েছে তা আমি জানি না।’’

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোঃ সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরী জানান,‘‘ঘটনাস্থলে পুলিশ আমি প্রেরণ করেছি এবং এটা খুব দুঃখজনক ঘটনা। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে।’’