বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ছে না

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : নাকচ হয়েছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩৫ করার প্রস্তাব। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বেসরকারি এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে সরকারি ও বিরোধীদলের মোট ১০ জন সদস্য সমর্থন দেন। পরে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩৫ করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলু। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকুরিতে নিয়োগে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়স সীমা ৩০ বছর থেকে ৩৫ বছরে উন্নীত করা হোক। কারণ, বিশ্বের ১৯৯টি দেশের ১৫৫টি দেশে চাকিরতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩৫-৫৯ পর্যন্ত রয়েছে। আমেরিকা কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইরাক, ইরান এরকম ১৫৫টি উন্নয়নশীল দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩৫ থেকে ৫৯ বছর পর্যন্ত করা আছে।’

বাবলু আরও বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষিত বেকার সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখের অধিক। লেখাপড়া শিখে যখন একটা সন্তান বেকার থাকে, তখন তারা পরিবারের কাছে যে কত বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, সেটা পিতা মাতাই জানেন। আমরা এই বোঝা আর বাড়তে দিতে চাই না। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের পরিবর্তে ৩৫ বছর করা হোক।’

তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করার পর তাতে সমর্থন জানান সরকারি ও বিরোধীদলের মোট ১০ জন সদস্য। পরে বাবলুর প্রস্তাবের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। তাই ২২-২৩ বছরের মধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করতে পারছে আমাদের তরুণরা। কাজেই তারা চাকরিতে প্রবেশে ৭ বছর সময় পাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশে এই ৭ বছরই যথেষ্ট।’

তিনি বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। যে নীতিগত সিদ্ধান্তটি এখন চলমান আছে, তা হচ্ছে সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা উত্তর চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ছিল মাত্র ২৫ বছর, পরবর্তীতে ২৭ বছর করা হয়। সর্বশেষ ৩০ বছর করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএস পরীক্ষায় ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২ বছর করা হয়েছে।

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাখা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তখন বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে প্রায়ই সেশনজট লেগে থাকত। সেই বিবেচনায় বয়স বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন সেশনজট নেই, যে কারণে ছাত্র-ছাত্রী যথা সময়ে; অর্থাৎ ২৩ বছরেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করছে। কাজেই শিক্ষা জীবন শেষ করে ৭ বছর সময় পাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশে এই ৭ বছর সময়ই যথেষ্ট।

অপর ব্যাখায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী যদি ২৩ বছরে একজন শিক্ষার্থী লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করেন, আর ৩৫ বছরে একজন চাকরিতে প্রবেশ করেন তাহলে দুই জনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য দেখা দেবে। তাতে বয়সের অসামঞ্জস্যতা দেখা দেবে। বয়সের অসামঞ্জস্যতার কারণে একই পদে চাকরি করার ক্ষেত্রে মনস্তাত্বিক সমস্যা হতে পারে। তাই প্রস্তবটা অতটা যৌক্তিক মনে হয় না। তাছাড়া আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স সীমা ৫৯ বছর রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে পেনশনের ক্ষেত্রে একটা নীতিমালা রয়েছে। পেনশন পেতে হলে অন্তত ২৫ বছর চাকরি করতে হয়। সেক্ষেত্রে যদি ৩৫ করা হয় তাহলে দেখা যাবে চাকরিতে প্রবেশ করতে ৩৫ বা ৩৭ বছর লেগে যায় তাহলে ৫৯ বছর থেকে ৩৭ বছর বাদ দিলে মাত্র ২২ বছর হয়। সেক্ষেত্রে পেনশন পেতে ঝামেলা হবে। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রবশের বয়স সীমা শৃঙ্খলায় রাখার জন্য বর্তমান নীতিই উপযুক্ত মনে করছে সরকার। তাছাড়া সরকার অনেক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ব্ক্তব্যের পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার তা কণ্ঠভোটে নিয়ে যান। সংসদে উপস্থিত সাংসদরা এতে না ভোট দেন। পরে বয়সসীমার বিষয়টি নাকচ হয়ে যায়। দৈনিক আমাদের সময়

এ জাতীয় আরও খবর

বিয়ের পরও একাধিক সম্পর্ক, বোমা ফাটালেন রাজ্জাক

অর্ধেক টাকাসহ চোরকে খুঁজে পেলেন অনন্ত জলিল

‘প্রতিপক্ষের ভয়ে’ মিন্নির পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী

যে কারণে দাফনের ৪৭ দিন পরে কবর থেকে ব্যবসায়ীর লা’শ উত্তোলন

এরশাদ শুধু ভাই ছিলেন না, আমার পিতা-শিক্ষকও ছিলেন : জিএম কাদের

রিফাত হ’ত্যায় মিন্নি জড়িত থাকার যে প্রমাণ পেল পুলিশ

বন্যার পানিতে রেললাইন ডুবে ট্রেন চলাচল বন্ধ

পুরান ঢাকায় ভবন ধস: একজনের লা’শ উদ্ধার

কুপ্রস্তাবে না বলায় ২৩ বার অস্ত্রের কোপ, সেই নারী এখন ব্যারিস্টার!

ছাত্রীদের যৌ’ন হে’নস্থা অভিযোগে রাস্তায় শিক্ষককে ‘বিবস্ত্র’ করে মা’রধর

অসামজ্ঞস্যপূর্ণ সম্পদের মালিক সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের পিওন: দুদকের মা’মলা

প’রকীয়ায় বাধা: রিফাতকে ‘টাইট’ দিতে চেয়েছিল মিন্নি!