সোমবার, ২০শে মে, ২০১৯ ইং ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান কাটার প্রস্তুতির মূহুর্তে ঝরে গেছে সোনালী ফসল

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল , ব্রাক্ষনবাড়িয়া : কৃষি-কৃষকের প্রান সোনালী ধান। এ ধানের পাকা গন্ধে মাতোয়ারা হাওর। গোছা ভর্তি ধানের ভরে ধান গাছ নুইয়ে পড়ছিল। ভাল ফলনে খুশি কৃষকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী পেরিয়ে ওপারের শত শত একরের জমিতে পাঁকা ধানের এ অবস্থা ছিল ক, দিন আগে ও। কৃষকরা জানায়, ধান ভর্তি হাওর দেখলে প্রান জুড়িয়ে যায়। কৃষান-কৃষানীদের ধান কাটার শেষ প্রস্তুতি চলছিল এপ্রিলের প্রথমদিকে।

কিন্তু গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে নিমিষেই ঘটে বিপত্তি। কালবৈশাখী ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে সব কিছুই তছনছ করে দেয়। পাকা-আধা পাকা ফসলী জমি লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে সেখানে ভালই উৎপাদন হয় বোরো ধান। নৌকা পার হতেই দেখা হল কৃষক রহিমের সাথে। তিনি বলেন, (৬/৭ কানি) দুই,শ দশ শতাংশ জমি চাষ করি। ফসল ভালই হয়েছিল। এখন শিলা বৃষ্টিতে সব শেষ। ভলাকুট হাওর ও পাশের অষ্টগ্রামের হাওরের অবস্থা খুবই খারাপ। পুরো মাঠের ধান শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে। কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান। চলতি মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দু, দফায় কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি আঘাত করে। সরজমিনে ঘুরে জানাযায়, প্রচন্ড বাতাস ও শিলাবৃষ্টির কারনে অর্ধেক এর ও বেশী ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পাকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেছে।

শত শত কৃষক শেষ সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রনোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি বছর হাওর বেষ্ঠিত নাসিরনগর উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। এবার বাম্পার ফলন এর আশা ছিল। শিলাবৃষ্টি ঝড়ে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল ব্যাপক ও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, ১৫/২০ ভাগ জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি গ্রস্থের মধ্যে বিআর-২৮, বি-আর ২৯ জাতের ধান রয়েছে।

একদিকে ফসল নষ্ট অন্যদিকে ঋণ ও সুদের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে সে চিন্তাসহ ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ এসব নিয়ে কৃষক দিশেহারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আকষ্মিক ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে শত শত কৃষান-কৃষানীদের এ অবস্থা। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এসকল জমির প্রায় ৯৯ শতাংশ পাকা ধান জড়ে গেছে বলে জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল হক। এদিকে, সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর, টেকানগন, মন্নরপুর, কামারগাঁয়ের বেশির ভাগ গ্রামের পাকা ধান শিলা বৃষ্টিতে ৯০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নাসিরনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার ১ শত ৬৫ হেক্টর জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, গোয়ালনগর, ভলাকুট, চাতলপাড় ও গোকর্ণ ইউনিয়নে। ব্রাক্ষনবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নাসের বলেন, দু,দফায় শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে শুধু মাত্র এ উপজেলায় অন্তত ৬ হাজার হেক্টর ফসল ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্য ফসলের উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদেশী ব্র্যান্ডের নামে আলমাস, বিডি বাজেট বিউটি, মোস্তফা মার্টে নকল কসমেটিক্স!

প্রতারণা: সাদা ছাগলে কলপ মেখে বিক্রি!

যে সব অস্ত্রের কারণে ইরানকে ভয় পায় আমেরিকা-ইউরোপ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কী বলে ডাকবেন- জানতে চেয়ে আবেদন!

অ্যাপল বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে চীনারা

নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হংমেং’ আনছে হুয়াওয়ে

সময়ের আগেই তৈরী ৩ সেতু, বরাদ্দের ৭০০ কোটি টাকা ফেরত দিল জাপানিরা

কে এই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা?

উচ্চ শ্রেণীর সঙ্গে চেয়ারে খেতে বসায় পিটিয়ে হত্যা

ঘর থেকে পুলিশের মরদেহ উদ্ধার

মাশরাফি হিরো হলে ভালোই লাগবে: পূজা চেরি

কিউবায় আবিষ্কার হলো মরণ রোগ ক্যান্সারের টিকা, রোগমুক্ত হবে শতকোটি মানুষ