রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জীবনে-মরণে একসঙ্গে থাকতে চায় ওরা

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : প্রেমিক-প্রেমিকা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। বিয়েতে সম্মত নয় পরিবার। কিন্তু তারা তো একে অপরকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। এমন বাস্তবতায় একসঙ্গে মরণকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন সুইটি সূত্রধর আর তানভীর হোসেন সজীব। একজন আরেকজনকে ছুরিকাঘাতে জীবন সাঙ্গ করার চেষ্টা চালান।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের নার্স কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নার্স সুইটি ও সজীবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একে অপরকে পছন্দের বিষয়টি তারা দুই পরিবারকেই জানিয়েছিল।

কিন্তু কোনো পরিবারই এ সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে সজীবকে ফোন করে তার কোয়ার্টারে আসতে বলেন সুইটি। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেন সহমরণের। প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে সুুইটির পেটে আঘাত করেন সজীব। পরে নিজেই নিজের গলায় পোচ দেন তিনি। তবে মরণ যন্ত্রণায় দুজনেই চিৎকার শুরু করলে অন্য নার্সরা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

খবর পেয়ে রাতেই ছুটে আসেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেনসহ অন্যরা। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রেমিক যুগলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে সুইটির অস্ত্রোপচার করা হয় বলে জানা গেছে।

ডা. শওকত হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তে ডা. শেখ আবু জাফরকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ নাথ জানান, বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে।