শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাসচালকের শাস্তি হলে ট্রেনচালকের কেন হয় না : শাজাহান খান

news-image

সড়কে দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের শাস্তি হলে রেললাইনে মৃত্যুর জন্য ট্রেনচালকের শাস্তি কেন হয় না, এই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় শীর্ষক’ এক মতবিনিময় সভায় সড়কে পথচারীদের অসচেতনতার দিকটি তুলে ধরে এই প্রশ্ন করেন তিনি।

দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল, যার প্রধান হিসেবে রয়েছেন শাজাহান খান। আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরি সভাপতি। সংগঠনটি আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় তিনিই ছিলেন প্রধান অতিথি।

সভায় শাজাহান খান বলেন, “দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যাত্রী, পথচারী, ড্রাইভার সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো ঘটনা হলেই আমরা বলি, ‘ঘাতক ড্রাইভার হত্যা করেছে’। আসলে কী তাই?” পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, ‘পথচারীদের কারণে যে এক্সিডেন্ট হয়, সেখানে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হয়, এই ক্ষেত্রে অনেকে মারা যায়। কিন্তু ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলে তো ড্রাইভারের কোনো শাস্তি হয় না, এই ক্ষেত্রে বাস-ট্রাকের ড্রাইভারের কেন শাস্তি হয়?’

তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করুন, মিশুক মুনীর, তারেক মাসুদ যে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, সেটার জন্য আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে (চালককে), সঙ্গে সঙ্গে জরিমানাও করেছে। আর একটি গবেষণা সংস্থা “এক্সিডেন্ট রিসার্চ রিপোর্টে” আমরা দেখলাম এককভাবে ড্রাইভার দায়ী নয়। তাহলে ড্রাইভার এককভাবে সাজা খাটবেন কেন?’

পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আবার আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) জাহাঙ্গির কবির নানকের ছেলে মারা গেছেন যে দুর্ঘটনায় সেখানে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা হয়েছে, এখানেই বা ড্রাইভারের দোষ কোথায়।’ পথচারীর অসচেতনতা চালকদের সমস্যায় ফেলে দাবি করে শাজাহান খান বলেন, ‘অসচেতন পথচারীকে বাঁচাতে গেলে ৫০ জন যাত্রী মারা যাবে, ড্রাইভার এখন কোনটা করবে?’

প্রভাবশালী পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের জন্যই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বক্তব্যের জন্য বিভিন্ন সময় সমালোচনায়ও পড়তে হয়েছে তাকে।

শাজাহান খান বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ কখনোই বাস্তবায়ন হয়নি, ১৯৮৩ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে ৮৮টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরাও ১১১টি সুপারিশ করেছি, কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করবে কে? আগেও কেউ বাস্তবায়ন করেনি। ভবিষ্যতে করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করতে হবে। মন্ত্রণালয়সহ সকলকে পর্যবেক্ষণ করতে এই সেল কাজ করবে।’

মতবিনিময় সভায় শাজাহান খানের সংগঠন ‘সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন’ ১৬টি প্রস্তাব তুলে ধরে। এগুলো উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল, বিপজ্জনক ওভার টেকিং, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করাকে কঠোর হাতে দমন করতে বলা হয় একটি প্রস্তাবে। এ সময় জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী সভায় বক্তব্য দেন।