বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘পুরো শরীর তো পুড়ে গেছে, এখন আর কেউ ধর্ষণ করবে না’

news-image

পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল সুনীতাকে (ছদ্বনাম)। বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বাবার বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাবাই তাকে বিয়ের নামে বিক্রি করে দেন আরেক ব্যক্তির কাছে। এরপর থেকে শুরু হয় তার জীবনে ভয়াবহতা। দ্বিতীয় স্বামী নিজে তো তাকে ধর্ষণ করতেন। বন্ধুদের দিয়েও ধর্ষণ করাতে স্ত্রীকে।

এমন নির্মমতা সহ্য করতে না পেরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন সুনীতা। কিন্তু বিষয়টা হিতে বীপরিত হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্বামী জানতে পেরে অ্যসিড ঢেলে শরীর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু বর্বরতা থামে না সুনীতার জীবনে। শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরে আগুন দেন তিনি। হাসপাতালে শুয়ে তিনি বলেন, ‌‘পুরো শরীর তো পুড়ে গেছে, এখন কেউ ধর্ষণ করবে না’।

ভারতের নয়ডা এই ঘটনার পর সুনীতাকে যখন হাপুর পুলিশ উদ্ধার করে তখন তার শরীরের ৭৫%-৮০% পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। রিষভ নামে সুনীতার এক বন্ধু এ সময় তার পাশে ছিলেন। তিনিই পুলিশে খবর দেন।নয়ডা হাসপাতালে শুয়ে সুনীতা যখন পুলিশকে নিজের বয়ান দিচ্ছিল, উপস্থিত সকলে তখন বারবার চমকে উঠছিলেন।

সুনীতা জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার বাবা বিয়ে দেন তাকে। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আবারও তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। তার দ্বিতীয় স্বামী রোজ রাতে তাকে ধর্ষণ করতেন। বন্ধুদের নিয়ে এসেও টাকার বিনিময়ে ধর্ষণ করাতেন।

রাজী না হলে চলত অত্যাচার, বেধড়ক মারধর। দিনের পর দিনে খেতে না দেওয়া, কাজের লোকের মতো করে ঘরের সব কাজ করানো হতো তাকে দিয়ে।ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়ে ছিল, বাইরের লোকেরা জেনে গিয়েছিল; তাকে যে কোনো সময় ধর্ষণ করা যায়। তাই যে যখন পারতেন এসে তাকে ধর্ষণ করে যেতেন। গত পাঁচ বছরে অন্তত ২০ জন তাঁকে ধর্ষণ করেছে বলেও জানান সুনীতা।

এমন বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ কিছু করার আগেই তাকে অ্যসিডে ঝলসে মেরে ফেলার হুমকি দেন দ্বিতীয় স্বামী। পরে বন্ধু রিষভের সঙ্গে পালিয়েছিলেন তিনি।এতসবের মাঝেও তিনটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন সুনীতা। তিনি বলতে পারেন, দুটি সন্তান তার দ্বিতীয় স্বামীর। কিন্তু তৃতীয়টি কোনো এক ধর্ষকের।

সুনীতা পালিয়ে যাওয়ায় তিন সন্তানকেই আটকে ফেলেন তার স্বামী। ফিরে না এলে তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেন তিনি। পরে ফিরে আসেন সুনীতা। আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়। আর সহ্য করতে না পেরে নিজের শরীরে আগুন দেন তিনি।

হাসপাতালে সুনীতার বয়ান শেষ হওয়ার পর রিষভ কী চান জানতে চেয়েছিল পুলিশ। তিনি জানান, সেরে না ওঠা পর্যন্ত সুনীতার সঙ্গেই থাকবেন। পরে তার তালাক হয়ে গেলে বিয়ে করবেন।কিন্তু সুনীতার বর্তমান অবস্থা থেকে সেরে উঠতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

এ জাতীয় আরও খবর

‘নয়ন বন্ডের বাড়িতে বসেই স্বামীকে মারার পরিকল্পনা করেন মিন্নি’

বিয়ের পরও একাধিক সম্পর্ক, বোমা ফাটালেন রাজ্জাক

অর্ধেক টাকাসহ চোরকে খুঁজে পেলেন অনন্ত জলিল

‘প্রতিপক্ষের ভয়ে’ মিন্নির পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী

যে কারণে দাফনের ৪৭ দিন পরে কবর থেকে ব্যবসায়ীর লা’শ উত্তোলন

এরশাদ শুধু ভাই ছিলেন না, আমার পিতা-শিক্ষকও ছিলেন : জিএম কাদের

রিফাত হ’ত্যায় মিন্নি জড়িত থাকার যে প্রমাণ পেল পুলিশ

বন্যার পানিতে রেললাইন ডুবে ট্রেন চলাচল বন্ধ

পুরান ঢাকায় ভবন ধস: একজনের লা’শ উদ্ধার

কুপ্রস্তাবে না বলায় ২৩ বার অস্ত্রের কোপ, সেই নারী এখন ব্যারিস্টার!

ছাত্রীদের যৌ’ন হে’নস্থা অভিযোগে রাস্তায় শিক্ষককে ‘বিবস্ত্র’ করে মা’রধর

অসামজ্ঞস্যপূর্ণ সম্পদের মালিক সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের পিওন: দুদকের মা’মলা