শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

২২ বছর ধরে জালিয়াতি করছেন এই শিক্ষক!

news-image

নিউজ ডেস্ক।। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মাদ্রাসায় প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। সেটি ছিল ১৯৯৭ সালে। এরপর ২০১২ সালে ফের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে সুযোগ বুঝেই সে পদে আসীন হয়েছেন তিনি। আর এভাবে জালিয়াতি করে ২২ বছর ধরে বেতনভাতা উত্তোলন করছেন ওই শিক্ষক।

এমনই এক অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার নন্দীগ্রামের নুনদহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে। ওই প্রভাষকের নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। আর সেই পদে থাকাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়োগই অবৈধ ঘোষণা করেছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রওশন খানের নেতৃত্বে গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছে ইবির তদন্ত কমিটি।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির উপাধ্যক্ষ (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) পদে নিয়োগের জন্য আরবি প্রভাষক পদে অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও মোস্তাফিজুর রহমানের এ পদে অভিজ্ঞতা দেখাতে পারেননি। এ কারণে অভিজ্ঞতাবিহীন তার আবেদনপত্রও যথাযথ ছিল না। এর আগে আরবি প্রভাষক পদে অভিজ্ঞতা না থাকা শর্তেও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আর সেটাও হয়েছিল নিয়োগ বোর্ড এবং মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে।

এর আগে ২০১৪ সালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত দুই সদস্যের অপর এক তদন্ত কমিটি মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে সনদ জালিয়াতি করে চাকরি করার প্রমাণ পায়। তবুও এতদিন তিনি স্বপদে বহাল আছেন।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (মাদ্রাসা বিভাগ) সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে ২০১২ সালে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের মো. সেলিম তোহার নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটি ২০১২ সালের ১৯ ও ৩১ জুলাই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে নথিপত্র ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করে। এরপর ২০১৩ সালের ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি।

সেই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোস্তাফিজুর ১৯৯৭ সালের ১৫ মার্চ ওই মাদ্রাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ২০১২ সালে উপাধ্যক্ষের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। সেখানে আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। মোস্তাফিজুর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে চাকরি করলেও ১৯৯১ সালে অর্জন করা মাদ্রাসা বোর্ডের ফাজিল পাসের সনদ ও অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ২০১২ সালে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। কিন্তু তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি ১৯৯১ সালে একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসএস (অনার্স) ডিগ্রি এবং একই বছর ও একই শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নুনদহ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

আইন অনুযায়ী, একই শিক্ষাবর্ষে একই ব্যক্তি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিধিসম্মত নয়। তদন্তকালে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর একই শিক্ষাবর্ষে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। নিজের অপরাধ স্বীকার করায় তদন্ত কমিটি মোস্তাফিজুরকে উপাধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে পদাবনতির সুপারিশ করেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মসলেম উদ্দিন ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি কোনো জালিয়াতির আশ্রয় নেননি। একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সনদ গ্রহণ কোনো অন্যায় নয়। তা ছাড়া বিধি অনুযায়ীই তিনি উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রওশন খান বলেন, তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) পদে নিয়োগে সমস্যা পাওয়া গেছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থা না নিলে পরবতীর্তে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরে বগুড়া-নাটোর সড়কের পাশে ১৯৪৭ সালে নুন্দহ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মাসিক পেমেন্ট অর্ডারের (এমপিও) আওতায় আসে। ফাজিল অর্থাৎ ডিগ্রি পর্যায়ের এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষকরা বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান ২২ বছর ধরে সরকারি কোষাগার থেকে প্রভাষক ও উপাধ্যক্ষ হিসেবে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তা আত্মসাৎ বলেই গণ্য হবে। এজন্য আমরা তার বিচার দাবি করছি। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

এ জাতীয় আরও খবর

এবার মিন্নির পক্ষে ১৫০ আইনজীবী

‘জমি দখলের জেরে স্থানীয় হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করেন প্রিয়া’

একাধিক পুরুষের সঙ্গে প’রকীয়া: কসাই ডেকে স্ত্রীকে জ’বাই করলেন স্বামী

ভারতীয় গণমাধ্যম যেভাবে দেখছে পিয়া সাহার অভিযোগ

আমরা কেমন দল ‘টি-টোয়েন্টি’ বিশ্বকাপে দেখাব: রশিদ খান

ইউএনও নিজেই বানভাসি!

অজ্ঞান করে ৫ বছরের শিশু নিয়ে পালানোর সময় নারী আটক

আইসিইউতে ভর্তি শিক্ষামন্ত্রীর স্বামী

তুরস্কে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হলেন বাংলাদেশের রাশেদ

অবসর নয়, আর্মিতে যোগ দিতে দল ছাড়লেন ধোনি

ইংল্যান্ড অধিনায়কও বললেন ফাইনালের ফল ‘ন্যায্য হয়নি’

মসজিদ থেকে রিয়েলভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেলেন হজ কর্মকর্তা