শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় যেভাবে উদ্‌যাপিত হয় রমজান

news-image

প্রবাস ডেস্ক।। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়া। এ দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩২ মিলিয়ন। যার ৬১ শতাংশই মুসলিম। তার পরও বলতে হবে বহুজাতিক ও বহুভাষী মানুষের দেশ মালয়েশিয়া। ফলে মালয়েশিয়ার সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। জাতিগত বৈচিত্র্যের মধ্যে মালয়েশিয়ানদের জন্য ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধ। পবিত্র রমজানে এই বন্ধন আরো স্পষ্ট হয়।

রমজানের আগমনের আগ থেকেই তারা এই মাসকে উদ্‌যাপনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। সাধারণত রমজান শুরু হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগের জুমার নামাজের আগেই নির্ধারণ করা হয় যে কোন দিন এলাকার সব মুসল্লি একত্র হয়ে মসজিদ ও তার চারপাশের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন। পরিচ্ছন্নতার এই কাজকে মালয় ভাষায় বলা হয় ‘গোটোং রোয়ং’ অর্থাৎ পারস্পরিক সহযোগিতায় কোনো কাজ করা। শুধু মসজিদই নয়, ঘরবাড়িও সুন্দরভাবে পরিষ্কার করা হয়। পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেই শুরু হয় পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি।

মালয়েশিয়ায় প্রায় সব মসজিদেই অনেক লোক একত্র হয়ে ইফতার করে। মালয়েশিয়ানরা এটাকে বলে ‘ইফতার জামায়ি’। ইফতারে তাদের প্রিয় খাবার ‘বুবুর লাম্বু’ ও ‘বুবুর নাছি’। এ খাবারটি সাধারণত রমজান মাসেই বেশি খাওয়া হয়। মালয়েশিয়ানরা আনন্দমুখর পরিবেশে তারাবির নামাজ আদায় করে। তারাবির নামাজের মধ্যভাগে এবং শেষে থাকে হালকা খাবারের আয়োজন। এই খাবারকে বলা হয় ‘মোরে’।

মালয়েশিয়ার বেশির ভাগ মসজিদে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। বিশেষত বড় মসজিদগুলোয়। যেমন—রাজধানী কুয়ালালামপুরের মসজিদ নেগারা বা জাতীয় মসজিদ, মসজিদ বেলায়াহ, মসজিদ জামেক ও মসজিদ ইন্ডিয়া। আবার কিছু মসজিদে আট রাকাত তারাবিও পড়া হয়। তারাবির নামাজ যত রাকাতই হোক, তা নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই মালয়দের মধ্যে। তারাবির নামাজের শুরুতে বা মধ্যভাগে থাকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞানগর্ব আলোচনা হয়। এই আলোচনাকে তারা বলে ‘চেরামাহ’ বা ‘তাজকিরাহ’।

তারাবির পরে অনেকে বাড়ি ফিরলেও কেউ কেউ আবার মসজিদে হালাকা করে কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করে। যে সবচেয়ে বেশি ভালো পড়তে পারে, সে অন্যদের তিলাওয়াত শোনায়, তিলাওয়াতে কোনো ভুল হলে সংশোধন করে দেয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছেও রমজান অনেক আনন্দের। মালয় সমাজের একটি চমৎকার রীতি হলো বাচ্চাদের খুব অল্প বয়সেই রোজা রাখার অভ্যাস করানো হয়। যাতে তারা বড় হয়ে রোজা রাখতে কোনো কষ্ট অনুভব না করে।

সাহরির সময় একদল যুবক দফ বাজিয়ে মানুষকে ডাকে। তারা ‘সাহুর সাহুর’ বলে আওয়াজ দেয়। বিশেষত মালয়েশিয়ার গ্রামাঞ্চলে এটা বেশি পরিলক্ষিত হয়। রমজানে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময়ের পরে মালয়েশিয়ানরা বলে ‘ছেলামাট বেরপুয়াসা’ রমজানের অভিনন্দন। রমজানে মালয়দের বদান্যতা বেড়ে যায়। বিত্তবানরা গরিব, দুস্থ, অনাথ-এতিমদের সাহায্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আবার কেউ কেউ সম্মিলিতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অধীনে তাঁদের সহযোগিতা করেন।

এ জাতীয় আরও খবর

একাধিক পুরুষের সঙ্গে প’রকীয়া: কসাই ডেকে স্ত্রীকে জ’বাই করলেন স্বামী

ভারতীয় গণমাধ্যম যেভাবে দেখছে পিয়া সাহার অভিযোগ

আমরা কেমন দল ‘টি-টোয়েন্টি’ বিশ্বকাপে দেখাব: রশিদ খান

ইউএনও নিজেই বানভাসি!

অজ্ঞান করে ৫ বছরের শিশু নিয়ে পালানোর সময় নারী আটক

আইসিইউতে ভর্তি শিক্ষামন্ত্রীর স্বামী

তুরস্কে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হলেন বাংলাদেশের রাশেদ

অবসর নয়, আর্মিতে যোগ দিতে দল ছাড়লেন ধোনি

ইংল্যান্ড অধিনায়কও বললেন ফাইনালের ফল ‘ন্যায্য হয়নি’

মসজিদ থেকে রিয়েলভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেলেন হজ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম কিডনি আবিষ্কারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর সাফল্য!

মিন্নির বাবার হুমকি, আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আ’ত্মহ’ত্যা করমু