শুক্রবার, ২১শে জুন, ২০১৯ ইং ৭ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মানবসেবার অনন্য উদাহরণ : ১০ বছর ধরে বিনামূল্যে ইফতার করাচ্ছেন ভোলার নিজাম উদ্দিন

news-image

ইসলাম ডেস্ক।। মানবসেবার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ভোলার নিজাম উদ্দিন। গত ১০ বছর ধরে ভোলার ৯৩টি মসজিদে বিনামূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন তিনি। তার ইফতার খেতে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ছুটে আসছেন ইফতার করতে। প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ জনকে ইফতার করাচ্ছেন বিনামূল্যে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রোজাদারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য তিনি এমন মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ভোলার নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন জামে মসজিদ। রমজান এলেই এই মসজিদে মাস জুড়ে রোজধারী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ইফতার করানো হয়। শুধু এই মসজিদ নয় জেলার ৯৩টি মসজিদে গত ১০ বছর ধরে বিনামূল্যে ইফতার করাচ্ছেন নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ। শুধু মসজিদ নয় বিদ্ধাশ্রম, এতিমখানর শিশুদের ইফতার করান তিনি।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নিজাম উদ্দিন জানায়, ইফতারি করানো অনেক সোয়াব এর কাজ। একজন মুসলমান যখন সারাদিন রোজা রেখে ইফতারি করেন ও যিনি করান তাদের দুজনেরই সোয়াব হয়। যেহেতু আল্লাহ পাকা আমাকে সুযোগ ও অর্থ দিয়েছে সেহেতু আমি প্রতি রমজান মাসে ৯৩টি মসজিদে ইফতার করাই। এতে যেন মহান আল্লাহপাক সন্তুষ্টি হন, তেমনি রোজাদারের মুখে হাসি ফুটে।

মাসজুরে ইফতারের এই আয়োজন থাকছে সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই সারা দিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজানের মুহূর্তে এখানে ধনী-গরির শিশু-কিশোর সবাই ভেদাভেদের দেয়ালটি ভেঙে একসাথে বসে সবাই ইফতার করে থাকে। পথচারী, কর্মজীবী, ভাসমান, ছিন্নমূল থেকে শুরু করে সমাজের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিরাও শামিল হন এই ইফতারের আয়োজনে।

তাই সারা দিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজানের মুহূর্তে এখানে ধনী-গরিবের ভেদাভেদের দেয়ালটি ভেঙে যায়। ইফতার করতে আসা রোজধারী ব্যক্তিরা এখানে ইফতার করতে পেরে খুশী। মুসুল্লীরা মনে করছেন এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ ও সৌহার্র্ধ্য আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন। এছাড়ারও নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক স্থানে ইফতার করার ব্যবস্থা।

ইফতার করতে আসা কলেজ ছাত্র আরিফ উজ্জামান বলেন, নিজাম উদ্দিন সাহেব যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যান্ত চমৎকার উদ্যোগ। আমরা এখানে ধনী-গরীব সবাই মিলে এক সঙ্গে ইফতার করতে পারি। বাসায় যেভাবে ইফতার করি এখানে ইফতার করলে মনে হয় বাসার যেন ইফতার করছি।

রিকশা চালক ইউসুফ বলেন, সারা দিন রোজা রেখে রিকসা চালিয়ে অনেক ক্লান্ত হয়ে যাই। আর এখানে এসে ইফতার করতে পেরে খুব ভালো লাগে। সব ধরনের খাবার দিয়ে পেট ভরে ইফতার করানো হয়। খেয়েও তৃপ্তি পাই।

সাংবাদিক সোলায়মান হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এখানে ইফতার করানো হয়। ধনী-গরীব কোন বেধাবেদ নেই। সবাই একসঙ্গে বসে প্রাণবন্ত পরিবেশে ইফতার করছে। নিজান সাহেবের মতো দানবীরের কারনে যারা নি:স্ব অসহায়, ঠিক মতো খেতে পারে না তারা আজ পেট পুরে খেতে পারছে। তাই গরীব দুখী মানুষের কথা চিন্তা করে হলেও ভোলার অন্যান্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, রাসুল (স:) এরশাদ করেন, কেউ যদি কোন লোককে এক গ্লাস পানি বা খেজুর ধারা ইফতার করালো সে যেন পূর্ণ রোজার সোয়াব পাবে। তাই নিজাম সাহেব যে ইফতার করানোর উদ্যোগ নিয়েছে আল্লাহ পাক তার ইফতার কে কবুল করে নিয়ে। যেন আরো বেশি মানুষকে ইফতার করাতে পারেন তিনি।

নিজাম হাসিানা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. আবদুল মালেক জানায়, এখানে নিজাম উদ্দিন এর পক্ষে থেকে প্রতিবছর রমজান মাস জুড়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ৪শ থেকে ৫শ জন মানুষকে ইফতার করানো হয়। শরবত, মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজি, খেজুর, জিলাপি, জুস, ডিম সহ নানা আইটেমে ইফতার করানো হয়। প্রতিদিনই এখানে রোজাদারদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই বন্ধুবান্ধবসহ এখানে এসে ইফতার করেন।

বিশিষ্টিজনরা মনে করছেন নিজাম উদ্দিন এই উদ্যোগ মানবসেবার এক উজ্জল উদাহরণ। নিজাম উদ্দিন এর মতো সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসলে মানুষের মধ্যে ভেদাবেদ কমে আসবে বলে মনে করেন সবাই।