বুধবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরকারি সংস্থাগুলো টাকা না দিলে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিনঃ প্রধানমন্ত্রী

news-image

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে বিদ্যুতের বকেয়া বিল পেতে দিনের পর দিন ধরনা দিয়ে কাজ না হওয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারস্থ হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল বাকি পড়ে আছে। বিল পরিশোধের কথা বলে এলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। অন্যদিকে বিমানের জন্য জ্বালানি তেল কিনে সে টাকা পরিশোধ করছে না বলেও অভিযোগ করেন বিপু।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে তেল বিক্রি বাবদ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা পাবে। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বকেয়া টাকা শোধ করছে না। জ্বালানি তেলের দাম পরিশোধে গড়িমসি করছে বিমান। এমন বাস্তবতায় কি করণীয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বকেয়া টাকা পেতে আবার নোটিশ দেওয়ার জন্য। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, লাইন না কাটলে বিল দেবে না। ঈদের পরেই সরকারি সংস্থাগুলোকে বিলের জন্য নোটিশ দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নোটিশ পাওয়ার পর টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক এসব তথ্য জানান।

সভা শেষে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে বিদ্যুতের বিল বাবদ অনেক টাকা আটকে আছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছি। তিনি বলেছেন, বকেয়া টাকা না দিলে লাইন কেটে দিতে। বকেয়া টাকা পেতে এখন তাই করতে হবে। এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না। আমাদেরকে তো চলতে হবে।’

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, গতকালের এনইসি সভায় বড় একটি আলোচনার অংশ ছিল সরকারের এক সংস্থা আরেক সংস্থার পাওনা টাকা পরিশোধ না করার বিষয়টি। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আরেক মন্ত্রণালয়কে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। তার পরও টাকা দিতে গড়িমসি করে মন্ত্রণালয়গুলো।

গতকালের এনইসি সভায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়গুলো ভূমি কর পরিশোধ করে না। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তিন গুণ ক্ষতিপূরণ পাবে এটা আইনে বলা আছে। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয়গুলো খাসজমির পরিবর্তে ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

সভায় আলোচনা হয়, খাসজমি কিনলে সেখানে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ থাকে না। ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করলে সেখানে কমিশন বাণিজ্যের অপার সুযোগ তৈরি হয়। নিয়ম-কানুনের দোহাই দেখিয়ে নামের বানানে ভুল ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে নানাভাবে হয়রানি করে তার কাছ থেকে কমিশন খাওয়ার সুযোগ থাকে। এই অবৈধ সুবিধা খাসজমি থেকে মেলে না। তাই মন্ত্রণালয়গুলো এখন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে খাসজমির পরিবর্তে ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, ফসলি জমি কিছুতেই নষ্ট করা যাবে না। একান্তই যদি প্রয়োজন না হয়, ফসলি জমি অধিগ্রহণ যাতে না করা হয়, গতকালের সভায় তিনি আবারও এ নির্দেশ দেন। ভূমি উন্নয়নে মন্ত্রণালয়গুলোকে কর দেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকালের সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বকেয়া টাকা পেতে প্রধানমন্ত্রীর দারস্থ হন। কোন কোন সংস্থা থেকে কত টাকা এনবিআর পাবে, তার একটা হিসাব দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। গতকালের সভায় বকেয়া টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অহেতুক কারো জমি নেওয়া যাবে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবছর কত টাকা খরচ হয়, সে হিসাব বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেন, প্রতিবছর বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তার বাইরে আরো অনেক টাকা খরচ হয় সেখানে। যেটা অনেকে জানে না।

সংবাদ সম্মেলনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিন হাউজিং প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

তবে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নজরদারি সংস্থা যেহেতু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), তাই সঠিক তথ্য বের করার জন্য সেখানে আইএমইডির প্রতিনিধিদল পাঠাব। তারা সেখান থেকে এসে আমাকে প্রতিবেদন দেবে। আমি সে প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীকে দেখাব। মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন থেমে থাকবে না। দেশের উন্নয়ন চলবে। আমাদের দেশের সব উন্নয়ন ধরে রাখব।’

২,০২,৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন-এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। গতকাল এনইসি সভায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে আসছে অর্থবছরের এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। বাকি ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচ হবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে।

আসছে বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতকে। এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। যা মোট এডিপির ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১২.৮৩ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে। শিক্ষা ও ধর্ম খাতের জন্য ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বা ১০.৫৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা চতুর্থ সর্বোচ্চ।

এ জাতীয় আরও খবর

অ’স্ত্রসহ যুবলীগ নেতা খালেদ আটক

২ ধ’র্ষককে ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ

উড়ন্ত সূচনার পর দ্রুত ফিরে গেলেন তিন ব্যাটসম্যান, খেলাটি দেখুন এখানে(সরাসরি)

যুবলীগ নেতা খালেদের বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে র‍্যাব

ফকিরাপুলে ক্যাসিনোতে অভিযান : ১৪২ নারী-পুরুষ আটক

ভালো শুরুর পর ফিরে গেলেন দুই ওপেনার, খেলাটি দেখুন (সরাসরি)

ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলছেন লিটন, খেলাটি দেখুন (সরাসরি)

হিন্দি চাপিয়ে দিলে মানবো না, অমিত শাহকে রজনীকান্ত

পেঁয়াজ ৮০ টাকাই, ‘সয়ে গেছে মানুষের’

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ,দলে তিন পরিবর্তন, অভিষেক দু’জনের খেলাটি দেখুন (সরাসরি)

তিনদিনে সৌদি থেকে ফিরলেন ৩৮৯ বাংলাদেশি

রোহিঙ্গাদের এনআইডি করে কোটিপতি ইসি’র অফিস সহায়ক জয়নাল!