বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মসজিদে নববীতে ইফতার

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট।। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ়করণের অপার সুযোগ সৃষ্টি হয় পবিত্র রমজানে। রমজানের রোজা পালন ছাড়াও মসজিদে নববীতে বসে কুরআন তেলাওয়াত, তসবীহ তাহলীল পাঠ এবং বিশেষ করে শবে কদরে ইতেকাফ করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন মদীনায়। সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তের দৃশ্য কল্পনা করতেই প্রাণে একং ঐশী পরশ অনুভূত হয়। আর যারা সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকেন তাদের অনুভূতি কেমন তা একমাত্র তারাই ব্যক্ত করতে পারবেন।

সউদী সরকারের উদার ওমরাহ নীতির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মক্কা ও মদীনায় ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে দর্শনীয় স্থানসমূহ বিশেষ করে মসজিদে কোবা, শোহাদায়ে ওহূদ, সাবআহ মাসাজিদ, খেজুর বাগান, মসজিদে যুল কিবলাতাঈন মুসল্লির পদভারে গমগম করছে। এ ভিড় আরো বেড়ে যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে। কালো-সাদা, বড়-ছোট ভেদাভেদ না করে সবাই এক কাতারে বসে ইফতারে শরিক হন। খাবারেও নেই কোন ভেদাভেদ। সবাই একই দস্তরখান থেকে তুলে তুলে খাচ্ছেন।

এ যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ। এ খাবারের ব্যবস্থা করেন রোজাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, দূরদূরান্ত থেকে আসা সঊদীরা। মসজিদে নববীর ভেতরে পরিবেশন করা হয়, খেজুর, দই, জুস এবং রুটি। আর বাইরের অংশে পরিবেশন করা হয় খেজুর, লাবান, জুস, পানি, চা, গাওয়া, বিশেষ ধরনের রুটি, গোশত এবং বিরিয়ানী। আত্মতৃপ্তি সহকারে খেয়ে রোজাদাররা দোয়া করেন সবার জন্য।

মসজিদটির অভ্যন্তরে, ছাদে এবং উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাংশের অংশে ১৬ হাজারের বেশি কার্পেট স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদটির ভিতরে এবং ছাদে ৪০টি পানির জার এবং ডিসপোজেবল ঝরনাসহ ১৫ হাজারের বেশি ঠান্ডা পানির পাত্রে সরবরাহ করার জন্য প্রতিদিন ৩০০ টন জমজম পানি সরবরাহ করা হয়।

আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় সে রোজাদারের সমান সওয়াবের অধিকারী হয়। কেউ যদি শুধুমাত্র এক ঢোক পানি পান করিয়ে কোন রোজাদারকে ইফতার করায় সেও রোজাদারের সমান সওয়াব পায়। তবে রোজাদারের সওয়াব কমানো হয় না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সবাইকে রমজান মাস থেকে অফুরন্ত সওয়াব হাসিল করার তওফিক দান করুন। আমীন।

এ জাতীয় আরও খবর