শুক্রবার, ২১শে জুন, ২০১৯ ইং ৭ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া

news-image

নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর সহ উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আমদানি করা সংক্রমিত প্লাস্টিক বর্জ্য আর গ্রহণ করবে না মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্য এখন থেকে ফেরত পাঠাবে তারা। বেশকিছু দেশ থেকে রি-সাইকেল করার জন্য এসব বর্জ্য আমদানি করে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার এ বিষয়ে দেশটির কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন সেখানকার জ্বালানি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ইয়েও বি য়িন। মালয়েশিয়ার ক্লাং ওয়েস্টপোর্টে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সৌদি আরব, জাপান ও চীনের ৯টি কন্টেইনার পরীক্ষা করার পর সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে বলেন, যে বা যারাই মালয়েশিয়ায় বর্জ্য পাঠাবে তা ফেরত দেবো আমরা। এ জন্য লড়াই অব্যাহত রাখবো এবং এটা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করবো। আমরা একটি ছোট্ট দেশ। উন্নয়নশীল দেশের ধাক্কা আমরা নিতে পারি না।

ইয়েও বি য়িন বলেন, সংক্রমিত, সহজাত নয়, নিম্ন মানসম্পন্ন, রি-সাইকেল অযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবেশ করছে মালয়েশিয়ায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এসব বর্জ্য। এ সময় তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে যাওয়া দুধের প্লাস্টিক কার্টন দেখান সাংবাদিকদের, যার ভেতর পোকা রয়েছে। অন্যদিকে চীন থেকে যাওয়া একটি কন্টেইনার প্যাকেজিং হয়েছে ফ্রান্স থেকে। অন্য কন্টেইনারে রয়েছে মিশ্র জাতীয় প্লাস্টিক ও বৈদ্যুতিক বর্জ্য। মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়ে এসব পণ্য মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়েছে।

ইয়েও বি য়িন আরো বলেন, বৃটেনের একটি রি-সাইক্লিং কোম্পানি গত দু’বছরে প্রায় ১০০০ কন্টেইনারে করে কমপক্ষে ৫০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ায়। বৃটিশ নাগরিকরা মনে করছেন, তারা রিসাইক্লিংয়ের জন্য এসব পাঠাচ্ছেন। আসলে তাদের পাঠানো এসব বর্জ্য আমার দেশে স্তূপীকৃত হয়ে জমা হচ্ছে। তাই আমি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আহ্বান জানাই, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে রিভিউ করতে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশে বর্জ্য শিপিং বন্ধ করার আহ্বান জানাই আমরা। এরপরও যদি তারা এসব বর্জ্য মালয়েশিয়ায় পাঠায় তাহলে আমরা নির্দয়ের মতো তা ফেরত পাঠাবো।

স্থানীয় আমদানিকারকদের ১৪ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করে পাঠানো বর্জ্য ফেরত নিতে হবে। অন্যথায় সরকার ‘বাসেল কনভেনশন অন দ্য কন্ট্রোল অব ট্রান্সবাউন্ডারি মুভমেন্টস অব হ্যাজারডাস ওয়েস্টেস অ্যান্ড দেয়ার ডিজপোজালস’ চালু করতে বাধ্য হবে। সেক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি আরো দীর্ঘ হবে ও তাতে রপ্তানিকারকরাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৯শে এপ্রিল সেপনে পাঁচটি কনটেইনার ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছে শিগগিরই ৪৫০ টন প্লাস্টিক বর্জ্যভর্তি ১০টি কনটেইনার ফেরত পাঠানো হবে। ইয়েও বি য়িন বলেন, এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় মোট ১২৩টি কনটেইনার নিরীক্ষা করে দেখেছে। এর মধ্যে, সেপন, বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সৌদি আরব, নরওয়ে ও ফ্রান্সের বর্জ্য রয়েছে।

ফেরত পাঠানোর জন্য ঠিক করা ৬০টি কনটেইনারে সর্বমোট ৩০০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে প্লাস্টিক বর্জ্যবিরোধী অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়া সরকার। বন্ধ করে দেয় লাইসেন্সহীন প্লাস্টিক রি-সাইক্লিং প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বছরের শুরুতে বর্জ্য আমদানি বন্ধ করে দেয় বেইজিং। জানা গেছে, এরপর থেকে মালয়েশিয়ায় চীনা নাগরিকদের দ্বারা চালিত রি-সাইক্লিং প্রতিষ্ঠানগুলো মাশরুম চাষ করা শুরু করেছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ লাখ ৫৪ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবেশ করেছে মালয়েশিয়ায়। যেখানে ২০১৭ সালে ঢুকেছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টন। কিন্তু পরবর্তীতে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে এসব বর্জ্য গ্রহণের বিষয়ে প্রতিবাদ শুরু হলে মালয়েশিয়া সরকার বর্জ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধ করে দেয়া হয় ১৫০টির বেশি অবৈধ প্লাস্টিক রি-সাইক্লিং কারখানা। এ ছাড়া কড়াকড়ি আরোপ করা হয় নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের সরকার কানাডা থেকে দেশটিতে ফেলে যাওয়া ৬৯টি বর্জ্যের কনটেইনার ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পরই মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশে থাকা বর্জ্যগুলো ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উৎস: মানবজমিন।