মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বুড়ো জমিদারের নজর পড়েছিল ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর (জীবন বদলে দেওয়া গল্প)

news-image

হাজার বছর আগের কথা। ইতালির এক শহরে বসবাস করতেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিলো বলে একদিন জমিদারের কাছে গিয়ে বড় অঙ্কের টাকা ধার চাইলেন তিনি। কিন্তু শর্ত মেনে সময়মতো এতগুলো টাকা শোধ দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। ব্যবসায়ীর ছিলো এক মেয়ে। সে ছিল অত্যন্ত সুন্দরী আর বুদ্ধিমতি। স্বভাবও ছিলো মার্জিত। মেয়েটির দিকে নজর পড়েছিল বুড়ো জমিদারের। উপায় খুঁজছিলেন এই মেয়েকে কীভাবে বিয়ে করা যায়। তাই এবার একটি নতুন বুদ্ধি খেলা করলো বুড়োর মাথায়।

ব্যবসায়ীর বাড়িতে এসে জমিদার বললেন, আমি তোমার দুশ্চিন্তা আরেকটু হালকা করে দিতে চাই। একটি ব্যাগের মধ্যে সাদা ও কালো নুড়ি রাখবো। তোমার মেয়ে ব্যাগ থেকে যেকোনও একটি নুড়ি তুলে নেবে। যদি সেটি কালো হয়, তাহলে বাবার সমস্ত ঋণ মওকুফ হবে, কিন্তু আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করবো। আর যদি এটি সাদা হয়, তাহলে ঋণ মওকুফ হবে; তবে বৃদ্ধকে বিয়ে করতে হবে না।

নিরুপায় ব্যবসায়ী রাজি হলেন। কিন্তু অসৎ জমিদার আড়ালে গিয়ে ব্যাগের ভেতর একটি সাদা ও একটি কালো নুড়ি রাখার বদলে দু’টাই কালো নুড়ি রাখলেন। তারপর মুচকি হাসতে হাসতে বের হয়ে এলেন ব্যবসায়ী ও তার মেয়ের সামনে।

কিন্তু ঘটনাক্রমে ব্যবসায়ীর মেয়ে জমিদারের চালাকি দেখে ফেলে। যে বুড়ো আজ বাদে কাল কবরে যাবেন, তাকে এমন প্রতারণার আশ্রয় নিতে দেখে হতভম্ব সে। এখন তার সামনে উপস্থিত তিন-তিনটি জটিল সমীকরণ। প্রথমত, বুড়োর এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা। দ্বিতীয়ত, ব্যাগ থেকে দুইটা নুড়িই বের করে বুড়োর মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া। তৃতীয়ত, জেনে শুনে এ প্রতারণার সামনে নিজেকে বিসর্জন দেওয়া। কিন্তু ব্যবসায়ীর বুদ্ধিমতি মেয়েটি এই তিন সমীকরণের বাইরে গিয়ে অন্যকিছু চিন্তা করলো।

সে ব্যাগের কাছে গেলো। এর মধ্যে না তাকিয়ে একটি নুড়িতে হাত দিলো। কিন্তু যেই না বের করতে যাবে, সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় নুড়িসহ ব্যাগটি মাটিতে পড়ে গেলো। আসলে ব্যবসায়ীর মেয়ে এমনভাবে ঘটনাটি ঘটালো যাতে এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।

এরকম অবস্থায় বুড়ো জমিদার পুরোই হতভম্ব। কী করবেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। এ রকম বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, বুড়ো তা কল্পনাও করতে পারেননি। নিজের মানসম্মান বাঁচানোই এখন মূখ্য চিন্তা তার। অগত্যা বিয়ের আশায় গুঁড়ে বালি মেখে ব্যবসায়ীর সমস্ত ঋণ মওকুফ করে দিতেই বাধ্য হলেন তিনি বুড়ো জমিদার।

প্রিয় পাঠক, এখন ভাবুন তো, এ গল্পে শিক্ষণীয় কী আছে? হ্যাঁ, যা শেখার আছে, তা হলো- জটিল পরিস্থিতিতে ধরাবাঁধা নিয়মের বাহিরে গিয়ে সৃজনশীল চিন্তা করা উচিত। এতে নতুন সমস্যা ছাড়াই সুন্দরভাবে সমাধান আসবে। আপনিও থাকবেন নিরাপদ।  উৎস: অনলাইন।