শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাদশাহ লোকটিকে সুগন্ধিযুক্ত একটি আতর দিয়ে বললেন আশা করি তোমার পেরেশানী দূর হবে…

news-image

নিউজ ডেস্ক।। বাদশাহ মনসুরের দরবার। এক ব্যক্তি হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বললো, জনাব ! আমি এক ব্যবসায়িক সফরে বের হলে বেশ মুনাফা অর্জনে সক্ষম হই এবং ফিরে এসে আমার অর্জিত সম্পদগুলো আমার স্ত্রীর নিকট জমা রাখি। কিছুদিন পর স্ত্রীর নিকট আমার মাল চাইলে সে বলে, ঘর থেকে মাল চুরি হয়ে গেছে। অথচ চুরির কোনো নিশানা ঘরে ছিলো না। বাদশাহ মনসুর লোকটির কথা শুনে বললেন, তুমি কতোদিন পূর্বে বিয়ে করেছো?

: এক বৎসর জনাব! : কুমারী বিয়ে করেছো? না কি বিধবা মেয়ে? : বিধবা মেয়ে বিয়ে করেছি। : তার পূর্বের ঘরের কোনো সন্তানাদি আছে কি? : নাহ । নেই। এরপর কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে কী যেনো ভাবলেন বাদশাহ মনসুর। লোকটিকে খুব সুগন্ধিযুক্ত একটি আতর দিলেন, যা সচরাচর পাওয়া যায় না। বললেন, ঘরে ফিরে এ আতরটি ব্যবহার করতে থাকো। আশা করি তোমার পেরেশানী দূর হয়ে যাবে।

লোকটি আতর হাতেকরে দরবার থেকে বেরিয়ে গেলো। লোকটি বেরিয়ে যেতেই বাদশাহ মনসুর চারজন গোয়েন্দাকে ডাকলেন। বললেন, তোমরা শহরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে টহল দিবে। যদি কারো নিকট থেকে আমার দেয়া সেই আতরের ঘ্রাণ পাও, তাহলে সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসবে। সেই লোকটি বাদশার দেয়া আতর নিয়ে তার স্ত্রীর নিকট রাখলো।

স্ত্রী এতো সুন্দর খুসবুদার আতর দেখে সেটা পাঠিয়ে দিলো সেই ব্যক্তির নিকট, যার সাথে তার গোপন প্রণয় ছিলো। সে ব্যক্তি আতর মেখে শহরে বের হলো। গোয়েন্দাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে গোয়েন্দারা তাকে পাকড়াও করে নিয়ে এলো দরবারে।

: বাদশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এ আতর কোথায় পেলে সত্য সত্য বলো? লোকটি তখন হতভম্ব হয়ে হয়ে গেলো।

অতপর বাদশাহ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে বললেন, সে যদি এ পরিমাণ মাল ( যে পরিমাণ উক্ত ব্যবসায়ীর স্ত্রী তাকে দিয়েছিলো) উপস্থিত করে, তাহলে তাকে ছেড়ে দিবে। অন্যথায় এক হাজার বেত্রাঘাত করবে। পুলিশ তাকে রিমাণ্ডে নিতেই সে হড় হড় করে মাল ফেরত দেয়ার স্বীকারোক্তি দিলো।
:
বাদশাহ মনসুর ব্যবসায়ীকে দরবারে ডাকলেন। বললেন, যদি তোমার মাল ফিরিয়ে দেই, তাহলে তুমি কি তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফায়সালা করার অধিকার দিবে?
: হ্যাঁ। এই নাও তোমার মাল আর তোমার স্ত্রীকে আমার পক্ষ থেকে আমি তালাক দিয়ে দিলাম।