বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ সংযোগে জ্বলছে চুলা, সরকার হারাচ্ছে  রাজস্ব

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্টিভিশন কোম্পানির নাকের ডগায় বৈধ লাইনের সংযোগ থেকে বাসা-বাড়িতে  হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু অসাধু  ঠিকাদার আর তাদের মাঠ পর্যায়ের সিন্ডিকেট। আর এ কাজে  বাখরাবাদ ডিষ্টিভিশন  কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজস রয়েছে এরকম অভিযোগ আছে সর্বএ। আর এসব অবৈধ সংযোগে কারণে একদিকে যেমন বৈধ সংযোগকারীদের গ্যাস ব্যবহারে বেড়েছে বিড়ম্বনা আবার সরকার হারাচ্ছে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব।  সূএের মার্ধ্যমে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায়  ৫৪ হাজার  ফুট অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে আর এতে ৫ হাজার মত অবৈধ সংযোগ রয়েছে। আর এসব অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে  বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্টিভিশন  কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে ছোট-খাট দু-একটি অভিযান ছাড়া আর কাজের কাজ তেমন কিছু করতে পারছেননা।
২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ আশপাশের এলাকার গ্যাস বিতরনকারী কর্তৃপক্ষ ছিলো তিতাস। এরপর দায়িত্ব নেয় বাখরাবাদ। দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় আবাসিক গ্রাহক ছিলো ১৪ হাজার। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত আরো ৮ হাজার সংযোগ দেয় বাখরাবাদ। সবমিলিয়ে এখন তাদের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২২হাজার মত। গত তিন বছর যাবৎত নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকায় অবৈধ সংযোগের ব্যবহার  বেড়েছে সবচেয়ে বেশি  । তথ্য মোতাবেক সব অবৈধ সংযোগ রয়েছে,  শহরের পাইকপাড়া ও মেড্ডার এলাকার  শরিয়পুর ও তিতাস পাড়া (ময়লাভিটা), শেরপুরের ছয়ঘড়িয়া, ভাদুঘর ফাঁটাপুকুর কমিউনিটি সেন্টারসহ  আশ-পাশের বেশ কয়েকটি বিল্ডিং , নয়নপুর -চন্ডারখিল, দাতিয়ারা-মৌড়াইলসহ ঐ এলাকায় একসময় ধানের জমিতে সম্প্রসারিত নতুন বসত এলাকা।এছাড়া শহরতলী গোর্কণ এলাকার ছয়পাইরাসহ  আরো বেশ কিছু এলাকা। গত তিনবছর বছর যাবৎত এসব এলাকায় তৈরী হওয়ার একচালা টিনের ঘর থেকে শুরু করে উচূঁতলার বাসা-বাড়িতে বেশিরভাগ অবৈধ সংযোগ রয়েছে।
ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূএের মার্ধম্যে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি অবৈধ সংযোগের পাইপ লাইন যেসব এলাকায় সেগুলো হল সদর উপজেলার সুহিলপুরের কলামুড়ি কবরস্থানের সামনের সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফুট, এরপর ঘাটুরা এলাকায় ৩ হাজার ফুট,দারমা — নন্দনপুরে ৪ হাজার ফুট,কোনাহাটি-মাইঝহাটি জড়জড়িয়া পাড়া ও মালিহাতায় ৫হাজার ফুট, আবার সুহিলপুরের হাড়িয়ায় ৪ হাজার ফুট,তেলীপাড়ায় ৭ হাজার ফুট, গৌতমপাড়া কাঠবাড়িয়া  ৬ হাজার ফুট, সুহিলপুর তেলীহাটি, হিন্দুপাড়া,গৌতমপাড়া ,কেন্দুবাড়ি এলাকায় প্রায় ৮ হাজার ফুট,রাজঘর,নাটাই,ভাটপাড়া ও আমতলীতে ৬ হাজার ফুট,রামরাইলের ভোলাচংয়ে ৩ হাজার ফুট,বুধলগ্রামে ৬ হাজার ফুট অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে। এছাড়া  বুধলবাজার ও শালগাও-কালীসীমায় গ্রামে হাজার হাজার ফুট অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে।  তবে সবচেয়ে বেশী অবৈধ লাইন বসানো হয়েছে সুহিলপুরে। এরপর বুধল ইউনিয়নে। সেখানে অবৈধ ভাবে সম্প্রসারন করা গ্যাস লাইন থেকে হাজারের মতো সংযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূএে জানা গেছে ।
এছাড়া নাটাই ইউনিয়নের আমতলী,রাজঘর ও ভাটপাড়াতে ৩’শ ও বুধলের মালিহাতা প্রায় দেড়শো অবৈধ সংযোগ রয়েছে। খাঁটিহাতা ঈদগাহ রোড এবং খাঁটিহাতা গ্রামে  ২ হাজার ফুট অবৈধ গ্যাস লাইন বসিয়ে দেড়শোর মতো অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে এরকম জানা যায়। আবার আরেক অনুসন্ধানে বাখরাবাদ ডিষ্টিভিশন  কতৃপক্ষের লোকজন এসব অবৈধ সংযোগের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকার  নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অফিসের বড় কর্তা থেকে ছোট কর্মচারী কম-বেশী সবাই কোন-না কোন ভাবে এসব অবৈধ সংযোগের সাথে সম্পূক্ততা রয়েছে । তারা অসাধু ঠিকাদারে প্রতিষ্ঠানের সাথে মোটা অংকের লেনদেনে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। আর এজন্যই প্রায় সময়  অভিযানে  চুলার ব্যবহৃত এসব অবৈধ সংযোগ সকালে বা দুপুরে  বিচ্ছিন্ন করা হলেও আবার বিকালে মর্ধ্যই অদৃশ্য কারণে পুনরায় সংযোগ লাগানো হচ্ছে।
এছাড়া অফিসের কম্পিউটার শাখায় রয়েছে আরেক তেলেশমতি কারবার। যা অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারিদের বেশ সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে বৈধ সংযোগে বাসা–বাড়িতে বা উচূতলার বিল্ডিয়ে  ২০ টি চুলার লাইন ব্যবহ্নত অবস্হায় থাকলে তা অফিসের কম্পিউটার হিসেবে দেখানো আছে আট থেকে দশটি। আর বাকি হিসাব চলে যাচ্ছে অবৈধ সংযোগের খাতায়। তাদের হিসেবের মারফেছে বাকি দশটি চুলার লাইনের বইয়ের হিসাব চলে যাচ্ছে অবৈধ সংযোগের মার্ধম্যে লাগানো গ্রাহকের হিসেবে। আর এজন্যই মাঠ পর্যায়ে অনেক অবৈধ গ্যাস ব্যবহার কারি গ্রাহক অনায়াসে নতুন বই পেয়ে যাচ্ছেন। আর এসব গ্রাহক সরকারি নির্ধারিত ফ্রি  ডিমান্ড নোটের মার্ধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়েও ঠিকই নতুন বই তাদের নামে পেয়ে যাচ্ছেন। আর এ কাজের জন্য অসাধু ঠিকাদার গ্রাহকের কাছ নেওয়া লক্ষ লক্ষ টাকার এক ভাগ ধরিয়ে দিচ্ছেন অফিসের কর্তাদের কাছে। এছাড়া বৈধ গ্রাহকদের বিল বই শেষ হয়ে গেলে নতুন বই আনতে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় হয়রানি থেকে বাঁচতে অফিসের দায়িত্বরত কর্মচারিদের পকেট ভারি করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বাখরাবাদের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এখানকার অফিসের লোকজন আর অসাধু ঠিকাদার দুই’মিলে এখানে একটি চক্র ডিপার্টমেন্টের এগিনেষ্টে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর এই চক্রটি গ্রামে গ্রামে অবৈধ গ্যাস প্রদানের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
চক্রটি অনেক শক্তিশালী। মাঠ পর্যায়ে তাদের রয়েছে পেশী শক্তির বিভিন্ন স্তরের হাত। যার কারণে তারা  নিজেরাই পাইপ আনছে,লাইন বসাচ্ছে,রাইজার উঠাচ্ছে। বিল বই দিচ্ছে। সবই করছে।  সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, শহর ও গ্রামের এই চক্রটি গ্রাহকের কাছ থেকে এসব অবৈধ লাইন  থেকে চুলার সংযোগ দিয়ে  রাতারাতি ফুঁলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। এদের মর্ধ্যে অনেকে শহরের নামী-দামী ব্যবসায়ী হয়ে গেছে। পুনিয়াউট, ঘাটুরা, সরাইল বিশ্বরোড, মেড্ডা এলাকাসহ কিছু অসাধু  ঠিকাদাররা বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন বলে জানা যায়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বাখরাবাদ ডিষ্টিভিশন কোম্পানীর উপ-মহা ব্যবস্হাপক জাহিদুল রেজা বলেন, আমাদের চেয়ে তারা অনেক শক্তিশালী। অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে কাজ চলতেছে। আমরা ইতিমর্ধ্যে বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করেছি।
প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। অচিরে সাঁড়াশি অভিযানে নামা হবে। অফিসের কারো বিরুদ্ধে সু-নিষ্দিষ্ঠ অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্হা নিব। ইতিমর্ধ্য কারো কারো বিরুদ্ধ আমরা উপরে লিখেছি তাদের বিরুদ্ধে ডির্পারমেন্টাল ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে। আমরা আগে অফিসটাকে শুদ্ধ করতে চাচ্ছি । সে ক্ষেএে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ জাতীয় আরও খবর