শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১২০ টিকেটের বিপরীতে সহস্রাধিক যাত্রী, দূর্ভোগ চরমে

news-image

গোলাম সারোয়ার, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : আশুগঞ্জবাসীর রেল পথের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা আশুগঞ্জ রেলষ্টেশন। সড়ক, মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীরা নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুলভ মূল্যে ভ্রমণের জন্য রেলপথ বেছে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাই যতই দিন যাচ্ছে মানুষ সড়ক পথের তুলনায় রেলপথ ভ্রমনে ঝোঁকছে। ফলে এই ষ্টেশনে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা।

আশুগঞ্জ রেল ষ্টেশন থেকে প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিন হাজারেরও অধিক যাত্রী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় টিকেট অপ্রতুল হওয়ায় প্রতিনিয়তই যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

আশুগঞ্জ রেলষ্টেশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ রেলষ্টেশন থেকে বেসরকারি তিতাস কমিউটার ও কর্ণফূলি কমিউটার ট্রেন ব্যাতিত সরকারি আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসের ১২০ টি আসন বরাদ্ধ আছে। কিন্তু ১২০টি আসনের মধ্যে অর্ধেক অনলাইনে। ‘ঢাকা থেকে নোয়াখালী, নোয়াখালী থেকে ঢাকা রেলপথে চলাচলকারী উপকূল এক্সপ্রেস ৬০টি আসন, ‘ঢাকা থেকে সিলেট, সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ৪০টি আসন , ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেলপথে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসের ২০টি আসন বরাদ্ধ রয়েছে।

আরো জানা যায়, চলতি অর্থ বছর ( ২০১৮-২০১৯) সালে গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পর্যন্ত ষ্টেশনের আয় হয়েছে বেসরকারি ট্রেন ব্যতীত ২ কোটি ৩৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। আর যাত্রী সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩শত জন। গত অর্থ বছরে ( ২০১৭-২০১৮) সালে ষ্টেশনের আয় হয়েছিল বেসরকারি ট্রেন ব্যতীত ২ কোটি ৩০ লক্ষ ৩ হাজার ৪শত ২৪ টাকা। আর যাত্রী সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫শত ৭১ জন যেই ষ্টেশনে প্রতিদিন হাজারেরও অধিক যাত্রী যাতায়াত করছে। সেখানে প্রতিদিন ১২০ টি আসন বরাদ্ধ দিয়ে যাত্রীদের দূর্ভোগ ছাড়া আর কি হতে পারে।

মহানগর এক্সপ্রেসে ঢাকা যাবেন বৃদ্ধা জাহানারা বেগম জানান, শারিরিক অবস্থা ভাল থাকায় ট্রেনে যেতেই আরামদায়ক মনে করেন তাই ষ্টেশনে আসছেন। কিন্তু টিকেট না পেয়ে মুখ খানা মলিন করে বসে আছেন।

ভ‚ক্তভোগীরা জানান, সড়ক পথে চট্টগ্রাম যেতে সড়কের দূরাবস্থার কারণে অধিক সময় ও অধিক টাকা গুণতে হয়। তাই ট্রেনেই যাতায়াত করি । কিন্তু প্রায় সময় আসন বিহীন দাড়িয়ে যেতে হয়। এছাড়া ও সকাল ৯টায় ষ্টেশনে এসে টিকেট কাউন্টারে গিয়ে টিকেট চাইলে বলে আসন নেই। তাই বাধ্য হয়ে আসন বিহীন যাতায়াত করতে হচ্ছে।

আশুগঞ্জ রেলষ্টেশনের মাষ্টার নূর-নবী জানান, আশুগঞ্জ রেলষ্টেশনে প্রতিনিয়তই ট্রেনের যাত্রী বাড়ছে, কিন্তু যাত্রীর তুলনায় আসন বরাদ্ধ না থাকায় যাত্রীদের এমন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যদি ট্রেনের নতুন কোচ, আসন, ও নতুন ট্রেন সংযোগ না করে তবে রেলপথে যাত্রীদের দূর্ভোগ লাগব করা যাবে না।

এমতাবস্থায় আশুগঞ্জের সর্বস্তরের জনসাধারণের দাবী অচিরেই ট্রেনে নতুন কোচ ও আসন বাড়ানো এবং রেলপথে নতুন ট্রেন সংযোজন করা।