মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এ এক যৌ’নদাসী হিসেবে বিক্রি হওয়া নারীর গল্প

news-image

চীন থেকে পালিয়ে বাঁচার আগে উত্তর কোরিয়ার একঝাঁক নারী সাইবার সেক্স দাসী হিসেবে দিন পার করেছেন। উত্তর কোরিয়া থেকে তাদেরকে চীনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। লি ইয়ামি (নাম পরিবর্তিত) নামের এক তরুণী জানান, চীনের পূর্বাঞ্চলের এক ভবনে তিনিসহ আরো বেশ কয়েকজন নারীকে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিনি পাঁচ বছর ধরে সাইবার সেক্স দাসী হিসেবে ভয়াবহ দিন পার করেছেন।

চীন-উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকার এক তরুণের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ওই তরুণীর। তবে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ওই তরুণীকে কিনে নিয়ে এসেছিল চীনের তরুণ। তারপর সে ওই তরুণীকে বিক্রি করে দেয় সাইবার সেক্স দাসী হিসেবে। উত্তর কোরিয়ার বহু তরুণীর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার সময় তার সঙ্গে কুয়ান হা নামে আরেক তরুণী ছিল।

অনলাইনে একপর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক তরুণের সঙ্গে আলাপ হয় লির। সেই তরুণ লিকে কথা দেন, চীনে গিয়ে তাকে উদ্ধার করবেন। সে অনুসারে লিকে উদ্ধার করেন তিনি। তবে চীনে ঠিক কতো সংখ্যক উত্তর কোরিয়ার নারী এভাবে দিন পার করছেন, সেই হিসেব নেই পিয়ংইয়ং এর। যদিও দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি উত্তর কোরিয়ার নারীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে।

লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতেই অন্য আট তরুণীর সঙ্গে চীনে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন। এজন্য বিয়ে করেন চীনের এক তরুণকে। তবে বিয়ের পর চীনে কোনো চাকরি মেলেনি। চার হাজার ডলারে বিক্রি হতে হয়েছে সাইবার সেক্স দাসী হিসেবে।

তিনি আরো বলেন, এসব করতে আমার ভালো লাগে না। বসকে বিষয়টি জানাতেই তিনি রেগে যান। সোজা বলে দেন, আমার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন। কোনোভাবেই আমাকে যেতে দেবেন না। এসব শুনে কেবল কাঁদতাম আমি।

যদিও চীন সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সে দেশের সরকার সবসময় মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে তারা সচেতন। বিদেশি কেউ যেন সেখানে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও তাদের দৃষ্টি রয়েছে।

লি বলছেন, অনলাইনে কিছু মানুষ আছে, যারা কেবল কথাতেই তৃপ্ত। কিন্তু অনেকেই তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু চায়। তারা বিভিন্ন ভঙ্গিতে বসতে বলে, নগ্ন হতে বলে। নগ্ন হয়ে আমাকেই আমার স্পর্শকাতর জায়গা স্পর্শ পর্যন্ত করতে বলে। তারা যেভাবে চায়, সেভাবে সবকিছু করতে হতো আমাকে।

তিনি আরো বলেন, বেঁচে থেকেও আমি হাজার বার মরে গেছি। কিন্তু কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারিনি। বসের নজর সবসময় আমার ওপর ছিল। লি বলেন, ছয় মাস পর পর বসের সঙ্গে বাইরে বের হতে পারতাম। এই সময়ের মধ্যে একই ভবনের অন্য কোনো নারীর সঙ্গে পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ ছিল না। গত বছরের ২৬ অক্টোবর বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হন লি। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন।