বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বামীর আকুতি স্ত্রীর ভাড়া করা খুনির হাত থেকে বাঁচতে

news-image

নিউজ ডেস্ক।। গ্রামের সাধারণ পরিবারের মেয়ে রোমেনা ফেরদৌস তৃপ্তি। স্বামীর সংসারে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। স্বামীর আর্থিক উন্নতির সাথে সাথে বদলে যেতে থাকে তৃপ্তির জীবনযাপন। সাধারণ জীবনযাপন থেকে কিছু দিনের মধ্যেই বিলাসী ও বেপরোয়া জীবনযাপনের প্রতি আকৃষ্ট হয় সে। এতে বাঁধা দিলে স্বামীকে খুন করার পরিকল্পনা করে তৃপ্তি। তবে স্বামী আজাদের সরলতায় মুগ্ধ হয়ে খুনের পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয় ভাড়াটে খুনি এবং টাকা ফিরিয়ে দেয় তৃপ্তিকে। এছাড়া তৃপ্তি ও ভাড়াটে ব্যক্তির মধ্যে হওয়া মুঠোফোনে ধারণ করা কথোপকথনের ২৪টি অডিও ক্লিপ আজাদের হাতে দিয়ে চলে যায় ভাড়াটে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি।

এভাবে প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারো খুনের চেষ্টা চালায় স্ত্রী তৃপ্তি। সেই নতুন খুনির হাত থেকে বাঁচতে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্বামী আজাদ। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পীর-ফকির দিয়ে স্বামীকে বসে রাখতে চেষ্টা করার কথাও রয়েছে অজ্ঞাত সেই ব্যক্তির সাথে কথোপকথনে। ঘটনাটি ঢাকায় বসবার করা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এক দপ্ততির।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্ত্রীর ভাড়া করা অজ্ঞাত খুনির হাত থেকে বাঁচার অকুতি জানায় স্বামী আজাদ। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনের পর রাজাপুর থানায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন আজাদ।

লিখিত অভিযোগে আজাদ জানান, উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী গ্রামের বারেক তালুকদারের ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি ঢাকার মান্ডার কদম আলী এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ওই এলাকার দুইটি বহুতল ভবনের মালিক। ১৮ বছর আগে জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া এলাকার নূরুল হকের মেয়ে রোমেনা ফেরদৌস তৃপ্তির সাথে বিয়ে হয় আজাদের। বর্তমানে তাদের ঘরে একটি ১০ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর আজাদ ঢাকার মান্ডা এলাকায় একটি ছয়তলা বাড়ি কেনেন। স্ত্রীর অনুরোধে বাড়ির অর্ধেক মালিকানা দেওয়া হয় তাঁকে। এর কিছুদিন পরই একই এলাকায় আরো একটি জমি কেনেন আজাদ। সেখানে বর্তমানে একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। সেই জমিরও অর্ধেক মালিক করা হয় তৃপ্তিকে। এর পর থেকেই তৃপ্তির আচরণ বদলে যেতে থাকে। তৃপ্তি বাসাভাড়ার টাকা নিজে তুলে তা দিয়ে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করে। এ নিয়ে স্বামী আজাদের সাথে বিরোধ তৈরি হয় তৃপ্তির। এর পরই পথের কাটা সরাতে ও সব সম্পত্তির মালিক নিজে হতে স্বামী আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে তৃপ্তি।

লিখিত অভিযোগে আজাদ আরো জানান, খুনের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর স্ত্রী তৃপ্তিকে তালাক দেন আজাদ। এর পরও ঢাকার বাড়িতে বহিরাগত মাস্তান নিয়ে অবস্থান করে সে। এ ছাড়া পুরো বাড়ি ভাড়ার টাকা তুলে নিজেই নিয়ে নেন তৃপ্তি।

এ বিষয় জানতে চাইলে রোমেনা ফেরদৌস তৃপ্তি বলেন, কাউকে হত্যা করার জন্য আমি কোন লোক ভাড়া করিনি। আজাদের সাথে অন্য মেয়েদের সম্পর্ক রয়েছে। তাই আজাদই আমাকে হত্যা করতে চায়। এ ছাড়া বাড়ি কেনার অর্ধেক টাকা আমার ছিলো তাই অর্ধেক মালিক আমি। উৎস: কালের কণ্ঠ।

এ জাতীয় আরও খবর