শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন শেফালী ঘোষের পুত্র

news-image

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী, মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক প্রয়াত শেফালী ঘোষের একমাত্র সন্তান শিল্পী সুকণ্ঠ দত্ত ছোটন মারা গেছেন।ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের রয়েল হাসপাতালে সোমবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

সুকণ্ঠের শ্বশুর স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শেফালী ঘোষের সন্তান সুকণ্ঠ দত্ত ছোটন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, প্রায় ২৫ দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ছোটনকে। এরপর কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে বাসায় আনা হয়। পরে তার ফুসফুসে পানি জমে যায় এবং পায়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন রাখার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।

পরে পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে একটি অপারেশনও করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো নয়। তার ফুসফুস ক্যান্সার। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৯ জুন থেকে তাকে চট্টগ্রামের রয়েল হাসপাতালের আইসিউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আজ বিকেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

সুকণ্ঠ দত্ত ছোটনের মা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী শেফালী ঘোষ স্বাধীন বাংলা বেতারের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে গান গেয়ে মুক্তিকামী জনতাকে উজ্জীবিত করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছিলেন প্রেরণা ও উৎসাহ। প্রায় দুই হাজারের অধিক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে দুই শতাধিক। সাম্পানওয়ালা, মালকাবানু, মধুমিতা, বসুন্ধরা, মাটির মানুষ, স্বামী, মনের মানুষ, বর্গী এলো দেশে’ চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান, কুয়েত, ভারত, মিয়ানমার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পৃথিবীর প্রায় ২০টিরও অধিক দেশে শেফালী ঘোষ গান গেয়ে চট্টগ্রাম তথা সারাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন। মরণোত্তর একুশে পদকসহ জীবিতকালে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হন। ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার প্রয়াণ ঘটে।