শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সেমির পথে টাইগারদের বড় শত্রু ধোনি!

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক: “ফিনিশার ধোনি এখন ফিনিশড!” ঠিক এই মর্মেই এমএসডি-র সমালোচকরা তাকে চলতি বিশ্বকাপে ধুয়ে দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ধোনি সমালোচিত। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩১ বলে ৪২ রানের ইনিংসে খেলেছিলেন ধোনি। কিন্তু তার মধ্যে সেই চেনা মেজাজটাই পাওয়া যায়নি। চারটি চার ও একটি ছয়ে সাজানো ইনিংস ছিল অত্যন্ত মন্থর। এমনটাই দাবি অনেকের। এমনকি ধোনি রান তাড়া করতে নেমে অনেক ডট বল খেলেছেন বলেও অভিযোগ এসেছে। শেষ ১০ ওভারে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে।
ইংল্যান্ডের ৩৩৭ রানের জবাব দিতে নেমে ইনিংসের শেষের দিকে ধোনি ও কেদার বড় শট না খেলে সিঙ্গলসের উপরে জোর দেন। ধোনি-কেদারের এরকম ব্যাটিং দেখে বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর।

সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, অন সাইডে ইংল্যান্ড যত জন ফিল্ডারই রাখুক না কেন, ধোনি অন সাইডে মারলে কেউই ওই বল থামাতে পারবে না। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ধোনির কাছ থেকে ঝোড়ো ব্যাটিং আশা করেছিলেন সৌরভ। প্রাক্তন অধিনায়কের আশা পূর্ণ হয়নি। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বড় শট খেলা তো দূর অসত‌! ধোনি কেমন যেন গুটিয়ে গেলেন। সৌরভ বলেন, এরকম মন্থর ব্যাটিংয়ের কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কেন সিঙ্গলস নিচ্ছে, তার উত্তর সত্যিই আমার জানা নেই। বাউন্স এবং লেন্থ হয়তো ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। তাই বলে ৩৩৭ রান তাড়া করতে নেমে শেষমেশ হাতে পাঁচ উইকেট থেকে যাওয়ার কোনও যুক্তি দেখি না। বার্তাটা খুব পরিষ্কার হওয়া উচিত। কীভাবে বল মারছ বা কোথায় মারছ, সেটা বড় ব্যাপার নয়। যে ভাবেই হোক বাউন্ডারি মারতে হবে। ম্যাচের এই পরিস্থিতিতে এসে সিঙ্গলস!

অবাক সৌরভ। তিনি ধোনি বা কেদার যাদবের নাম উচ্চারণ করেননি। কিন্তু, সৌরভসহ অন্যান্য প্রাক্তনদের নিশানায় যে ধোনি, তা বলাই বাহুল্য। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মন্থর ব্যাটিং করার জন্য শচীন প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন ধোনির। এবার সৌরভও তার প্রাক্তন ওপেনিং পার্টনারের রাস্তা নিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম ১০ ওভারে ভারত এক উইকেট হারিয়ে ২৮ রান করে। শেষের ১০ ওভারেও দ্রুত গতিতে রান তুলতে পারেনি ভারত। শেষের ১০ ওভারে ব্যাট করছিলেন ধোনি। হার্দিক তাও একটা মরিয়া চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ধোনি ক্রিজে আসার পরে পাণ্ডিয়ার মধ্যেও তাগিদ দেখা যায়নি।

সৌরভ বলেন, আশা করি এই ম্যাচ এই হার খতিয়ে দেখবে ভারত। বিশ্বকাপে এখন দারুণ ফর্মে রয়েছে ভারত। ভারতীয়দের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলা উচিত ছিল। ভারত যদি ৩০০ রানে অল আউটও হয়ে যেত, তা হলে আমি খুশি হতাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ফের পড়তে হতে পারে ভারতকে। প্রথম ও শেষ দশ ওভারে সাফল্যের রাস্তা খুঁজতে হবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের এই হারের কারণে জমে উঠেছে শেষ চারে ওঠার লড়াই। ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ কঠিন করল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে রবিবার দিনের একমাত্র ম্যাচে বিরাট কোহলিদের ৩১ রানে হারিয়েছে ইংলিশরা। এই জয়ের ফলে সেমিতে ওঠার পথ সহজ হয়েছে স্বাগতিকদের।

৮ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এখন চতুর্থ অবস্থানে আছে ইয়ন মরগ্যানের দল। ৩ জুলাই স্বাগতিকরা লিগ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ৭ ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের এটি প্রথম হার। লিগ পর্বে তাদের দুইটি ম্যাচ বাকি আছে। ২ জুলাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ও ৬ জুলাই শ্রীলঙ্কার মু্খোমুখি হবে ভারত।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের ফলে বাংলাদেশের সমীকরণ অনেক কঠিন হয়েছে। সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ২ জুলাই ভারতকে হারানো ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই মাশরাফি বিন মর্তুজাদের সামনে। ভারতের কাছে হারলেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের। ৫ জুলাই লিগ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে।সূত্র: আনন্দবাজার, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস