শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের রথযাত্রায় অতিথি হয়ে ফের বিতর্কে নুসরাত জাহান

news-image

বিনোদন ডেস্ক : কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইস্কনের রথযাত্রায় বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ফের আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান।

আগামী বৃহস্পতিবার ইস্কনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) রথযাত্রার উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন নুসরাত। ইস্কনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভির।

গত কয়েক মাস ধরে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। লোকসভা নির্বাচনে ভারতের রাজনীতির মাঠ সরগরম করে আলোচিত ছিলেন নুসরাত। তার বাকপটুতায় মুখোরিত ছিল পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তর।

এর পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে বসিরহাট আসনটি উপহার দেন নুসরাত। গত ২২ জুন জৈন ধর্মের অনুসারী নিখিল জৈনকে বিয়ের পর সিদুর ও মঙ্গলসূত্র পড়ে বিতর্কে জড়ান নুসরাত। মাথায় সিঁধুর দেয়ায় মুসলিমদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইস্কনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় নুসরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র রাধারমণ দাস। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, রথযাত্রার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ নুসরাত। আপনি সত্যিই পথ দেখাচ্ছেন।

১৯৭১ সালে স্থাপিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস ইস্কনের এটি ৪৮তম রথযাত্রা। রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। ইস্কনের মুখপাত্র রাধারমণ দাস টুইট করে জানান, ‘রথযাত্রার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ নুসরাত। আপনি সত্যিই পথ দেখাচ্ছেন।’

রাধারমণ দাস বলেন, ‘ইস্কন কলকাতা রথযাত্রা সামাজিক সমন্বয়ের একটি উদাহরণ, যেখানে ঈশ্বরের রথ নির্মাণ করেন আমাদের মুসলিম ভাইরা। ঈশ্বরের পরিধেয় বহু পোশাকও আমাদের মুসলিম ভাইরা বানিয়েছেন এবং এটা তারা করে আসছেন দশকের পর দশক ধরে আমাদের কিছু মন্দিরে।’

সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রথযাত্রার আয়োজনের জন্য অভিনেত্রী নুসরাত ইস্কনকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। পাশাপাশি রথযাত্রার উদ্বোধনে উপস্থিত থাকার জন্য এবং তাদের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেয়ার জন্য শহরবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সমালোচকদের উদ্দেশে বসিরহাট থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি এক জন মুসলিমই থাকব এবং আমি কী পরব তা নিয়ে কারও কথা বলার অধিকার নেই। বিশ্বাস সব কিছুর ঊর্ধ্বে।