বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নুসরাতকে যৌন হয়রানির মামলাও

news-image

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি’র মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেছেন। আগামী ৯ জুলাই ওই আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিবেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মো. শাহ আলম ও বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম শাহ জাহান সাজু এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ফেনী কারাগার থেকে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে আদালতে হাজির করা হয়। বুধবার (৩ জুলাই) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলাটি করার পর নুসরাত ফেনীর বিচারিক হাকিম আদালতে ঘটনার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেই জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ২৭ মার্চ বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে ডেকে পাঠানো হয়। রাফির সঙ্গে তার দুই বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ও নিশাত সুলতানাও অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে যায়। এসময় অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতের দুই বান্ধবীকে ভেতরে ঢুকতে দেননি। নুসরাত একাই অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেন। এসময় নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়াসহ তাকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। এক পর্যায়ে নুসরাত কাঁদতে কাঁদতে অধ্যক্ষের রুম থেকে বের হয়ে শ্রেণি কক্ষে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন,‘এই মামলায় দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার যোগসূত্র থাকার কারণে সাক্ষী নুসরাতের দুই বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ও নিশাত সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন ও নাইটগার্ড মো. মোস্তফার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে। এছাড়াও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুর উদ্দিনের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, মৃত্যুর আগে নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দিসহ কিছু তথ্যও ব্যবহার করা হবে ।’

সূত্র জানায়, যৌন হয়রানি’র অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি মা সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ ওই দিনই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ডেকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। নুসরাতের মায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা ও নুসরাতের ভাইয়ের করা হত্যা মামলা দুটি তদন্ত করে পিবিআই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।