বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০৩ টাকাতেই মিললো পুলিশে চাকরি

news-image

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ ‘লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আর মামা-খালুর জোর না থাকলে পুলিশে চাকরি পাওয়া যায় না’- এমন কথা লোকমুখে প্রচলিত। তবে এবার ব্যতিক্রম। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কুষ্টিয়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ৭৫ জনের চাকরি হয়েছে।

তবে একেবারে বিনে পয়সায় নয়, ১০৩ টাকায়। ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকার ফরম কিনলেই চাকরি হবে- পুলিশের এমন প্রচার কিংবা ঘোষণা একজন মিডিয়াকর্মী হিসেবে বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ এটি অসম্ভব প্রক্রিয়া। বিগত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো তার দৃষ্টান্ত।

ইতিপূর্বে একেকজন কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ দেয়া কিংবা নেয়া হয় ৮-১০ লাখ টাকা করে। বিগত কয়েকজন পুলিশ সুপার সেই স্বাদ ঠিকই গ্রহণ করেছিলেন। সেই সাথে বেশ কিছু দালালের পকেটেও গেছে বহু টাকা। স্বভাবতই বর্তমান কুষ্টিয়া পুলিশের এমন ঘোষণা অবান্তরই মনে হতে পারে। কিন্তু যখন দেখা গেলো নিয়োগ হয়ে গেছে, তখন কুষ্টিয়া পুলিশের প্রতি সেই ধারণাও পাল্টে গেলো।

এবার কুষ্টিয়ায় নিয়োগ হলো ৭৫জনের। মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল কোটা পুরণ করা হয়েছে তাতে। মাত্র দু’দিনেই যাচাই বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাতে চূড়ান্ত ঘোষণাও দেয়া হলো।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত (বিপিএম বার) তার কার্যালয়ের সামনে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেন।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দুই সহস্রাধিক চাকরি প্রত্যাশী অংশ নিলেও লিখিত পরীক্ষায় টেকে মাত্র ৩০০ জন। এর মধ্য থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সম্পুর্ণ মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয় ৭৫ জনের নাম। স্থান পায় ৭ নারীও।

৭ নারীর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান সোনিয়া আক্তার। বাবা দিদার আলীর অসচ্ছল পরিবারের সন্তান তিনি। চার ভাই বোনের মধ্যে সোনিয়া সবার ছোট। অভাবের সংসারের হাল ধরার মত কেউ নেই। বাবা দিদার আলী দরিদ্র কৃষক। তার পক্ষে বড় এই সংসার চালানো দায়।

ছোট বেলা থেকেই পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছে ছিল সোনিয়ার। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়ার সামর্থ নেই তার। এবার তিনি শুনেছেন চাকরিতে কোনো ঘুষ লাগবেনা। পুলিশের এমন প্রচারণায় আবেদন করেছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও উদ্বুদ্ধ করা হয় তাকে। শারীরিক ফিটনেস কিংবা মেধা দু’টিই ছিল তার। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল বেশ। মাত্র ১০৩ টাকায় হয়েও গেলো চাকরি।

পুলিশ সুপার জানান, চাকারি পাওয়া ছেলে-মেয়েদের অভিব্যক্তি শুনে আমি বিমোহিত হয়েছি। যারা চাকরি পেয়েছে তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পেয়েছে।তিনি বলেন, সরকারসহ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা চাচ্ছেন পুলিশে স্বচ্ছতা ফিরে আসুক। সেই চাওয়া পূরণেই কুষ্টিয়া পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করেছে। এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চাই।

এ জাতীয় আরও খবর