বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাসি-কান্না আর রৌদ-বৃষ্টিতে ভেজা বেদে সম্প্রদায়ের এক কঠিন জীবন 

news-image
ফারুক আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ২০-২৫টি স্হানে বেদেদের বসতি ঘরে উঠেছে।
খোলা আকাশের নীচে কোন রকমে একটা বাঁশের ডেরা দিয়ে পলিথিন বেষ্টিত ঘরের মাঝেই তাদের সাদা- মাঠা জীবন-যাপন। প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে দিন তারা কাটায়। রৌদ -বৃষ্টি, ঝড় -তোফান এগুলো তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে-পড়ে একটু ভাল থাকার  জন্য তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেন। এরা বৈএিচ্যময় মানুষ, সারাদিন ঘুরে বেড়ায় এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়।
আবার নদী মাতৃক অঞ্চলে তারা বসবাস করে অন্য রকম ভাবে। তখন বেদেদের বাস করার প্রধান বাহন হয়ে উঠে নৌকা। নৌকায় তাদের সংসার আবার এ নিয়ে  ঘুরে বেড়ায় নদীপথে বিভিন্ন জায়গায়।  এদের জীবন আসলেই অনেক বৈচিত্র্যময়। তাদের জীবন যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে কথা হয় বেদে কন্যা সিমা, আছমা ও কেয়া সাথে তারা বললেন, বেদে নারীরা তাদের স্বামীদের আঁচলে বেঁধে রাখে। পুরুষকে বশে রাখতে তারা শরীরে সাপের চর্বি দিয়ে তৈরি তেল ব্যবহার করে স্বামীর শরীরে তা প্রতিনিয়ত মালিশ করে। স্বামীরা যেন তাদের ছেড়ে অন্য কারো কাছে না যেতে পারে । তারা আরো জানালেন, আমাদের এখানে যৌথ পরিবার নেই। তবে বেদে সমাজে এখন অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। দিনবদলের হাওয়া তাদের সমাজে লেগেছে। এখন তারা শিক্ষিত হচ্ছে সচেতন হচ্ছে। বিনোদনের নতুন নতুন ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। আগের মতো মানুষ সাপ খেলা দেখে আর আনন্দ পায় না।
তাই তাদের পেশাকে পবিরর্তন করে নিয়েছে। তাই বেদেদের ঐতিহ্যগত পেশায় ধস নেমেছে। এত দিনের সংস্কার বিশ্বাসে আঘাত এসেছে। অভাবের কারণে সংসারে ভাঙন লেগেছে এমন অভিযোগ করে বলেন বেদে বহরের কয়েকজন বয়স্কা নারী। বেদেরা আকর্ষণীয় সেজেগুজ করে হাটবাজারে  দলবদ্ধভাবে জীবিকার জন্য হাটে। তাবিজ-কবজ বিক্রি, জাদুটোনা আর সাপ খেলা দেখিয়ে যাদের জীবন সংগ্রামে টিকে থাকা সেই ছিন্নমূল, অসহায় ও অধিকারবঞ্চিত বেদে সম্প্রদায়। যারা রাস্তার পাশে, ফাঁকা মাঠে বা পরিত্যক্ত জমি, খাসজমি, রাস্তার ধার, স্কুলের মাঠের পাশে অথবা নদীর তীরে অতিথি পাখির মতো অস্থায়ী আবাস গড়ে। আবার এক দিন উধাও হয়ে যায়, কেউ খবর রাখে না তাদের। কোথায় গেল? তারা দারিদ্র্যের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় আচ্ছন্ন তার খবর রাখার কেউ থাকে না।তারা বাচঁলেই কি আর মরলেই কি? তারা যেন সমাজের জন্য বুঝা সরুপ হিসেবে ভদ্র সমাজ দেখে।
সময়ের আবর্তে উন্নতির পরিবর্তে বেদে সমাজের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। নদীর রূপ বদলের সাথে সাথে তাদের চলার পরিধি ছোট হয়ে আসছে। আর তাই তারা অনেকেই ছাড়তে শুরু করেছে নদী। নদী ছেড়ে কোথায় যাবে এসব বেদে। নৌকাতেই তাদের জন্ম আর নৌকাতেই তাদের মৃত্যু। সমাজের উচ্চ শ্রেণীর মানুষ যদি আমাদের একটু দেখতেন তাহলে আমরা খুবই ভালো করে জীবন অতিবাহিত করতে পারতাম,এমনটাই বলেন বেদে কন্যা রহিমা খাতুন।