শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিপাকে পড়তে যাচ্ছে গ্রামীণফোন গ্রাহকরা

news-image

দেশের সর্বাধিক গ্রাহক ব্যবহৃত টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সেবা বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি এমনই পূর্বাভাস দিয়ে সেবাগ্রহণকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে খুদেবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে পাওনা পরিশোধ না করায় বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) গ্রামীণফোন ব্যান্ডউইথ কমানোর নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রামীণফোনে কল ড্রপ বেড়ে যাবে এবং ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যাবে।

ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়ায় গ্রামীণফোনে কল ড্রপ বেড়ে যাবে এবং ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যাবে। ব্যান্ডউইথ কমানোর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। বিটিআরসির হিসাবমতে, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা । আর রবির কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে বিটিআরসির এ দাবিতে দুই অপারেটরই এই পাওনা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে।

এদিকে, অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক জাকির হোসাইন। এর আগে একাধিকবার পাওনা আদায়ে দুই অপারেটরকে চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং রবির কাছে প্রায় ৮৬৭ কোটি টাকা পাওনার হিসাব তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিঠি প্রদানের কথাও বলেন।

ইতোমধ্যে লেভেল–৩ ক্যারিয়ার লিমিটেড, ম্যাঙ্গো টেলি সার্ভিসেস, সামিট কমিউনিকেশন, আমরা টেকনোলজি ও ফাইবার অ্যাট হোম গ্লোবালকে গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ বাড়ানো যাবে না। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও গ্রামীণফোন ও রবি সরকারের এ পাওনা অর্থ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয় চিঠিতে।

এদিকে বিটিআরসির এমন নির্দেশনাকে তুলে নিতে অনুরোধ করে গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেছেন, এ নির্দেশনা বাংলাদেশের মানুষ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। আমরা বিটিআরসিকে এ নির্দেশনা তুলে নেয়ার অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে সালিশ আইন, ২০০১-এর অধীনে অমীমাংসিত অডিট দাবির নিষ্পত্তিতে সহযোগিতার অনুরোধ করছি।